অনলাইন ইওর হেল্‌থ ডেস্কঃ আমার একবিংশ শতাব্দীর কর্মব্যস্ত মানুষ।  শরীরচর্চা করার সময় আমাদের নেই। কিন্তু বাস্তবতা  হল যতই আমরা কর্মব্যস্ত থাকি না কেন, শরীরের সঠিক পরিচর্যা না করার ফলে অসংখ্য রোগ-ব্যাধি আমাদের কাজ-কর্মের সাথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। মহামতি চরক আনুমানিক ৫০০ বছর আগে বলেছিলেন যে, যত ধরনের শরীরচর্চা আছে তার মধ্যে সাঁতার হল সর্বশ্রেষ্ঠ। সাঁতারের গুন দুটো-গোসল ও শরীরচর্চা আছে তার মধ্যে সাতার হল সর্বশ্রেষ্ঠ। সাঁতারের গুণ দুটো-গোসল ও শরীচর্চা । কোন কোন রোগের সাঁতার উপযোগী তা জেনে রাখা ভালো –

০১।  অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগে সাঁতার কাটলে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার দরুন ফুসফুসের ব্যায়াম হয় । ফলে এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের সুফল মেলে।

০২। যাদের সর্দি- কাশির প্রবণতা সারা বছর  কম-বেশি ভোগায় তারা সাঁতার কাটলে সুফল পাবেন। গরম থেকে ঠান্ডা বা ঠান্ডা থেকে গরম জায়গায় গেলে সজেই ঠান্ডা লাগে । কিন্তু নিয়মিত পানিতে নামলে হঠাৎ করে তাপমাত্রার পরিবর্তনে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা কমে যায় ।

০৩। সাইনুসাইটির বা সাইনাসের সমস্যায় যারা ভুগছেন প্রতিদিন নিয়ম করে সাঁতার কেটে গোসল  করলে সুফল পাবেন।

০৪। সাঁতারের সময় মুখ দিয়ে পানি নিয়ে নাক দিয়ে বের করে দিতে পারলে নাক পরিষ্কার হবে। সাইনাসের রোগীরা উপকৃত হবেন।

০৫। পোলিও রোগীরা সাঁতার কাটলে উপকার পাবেন। কারন সাঁতারে হাত ও পায়ের দ্রুত সঞ্চালন হয়, তার ফলে পোলিও রোগীদের অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় আনা যায়।

০৬। অ্যাক্সিডেন্ট বা দুর্ঘটনাজনিত কারনে হাতে, পায়ে বা শরীরের কোনো পেশিতে আঘাত লাগলে সাঁতার সে ক্ষেত্রে ভালো ফল দেয়।

০৭। আর্থ্রাইটিস বা বাতে আক্রান্ত রোগীরা রোদে যখন পানি গরম থাকে সে সময় সাঁতার কাটবেন। পানি গরম থাকতে থাকতেই উঠে গেলে আরাম বোধ করবেন। তবে তীর বরাবর সাঁতার কাটাবেন।

০৮। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সাঁতার কাটুন নিয়মিত,অব্যর্থ উপকার পাবেন। সাঁতারে হার্টের অসুখ , ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে থাকে ।

০৯।  ইনসমনিয়া বা অনিদ্রাকে দুর করার উৎকৃষ্ট উপায় হল সাঁতার কাটা। এতে অনেক রোগ থেকে মুক্তিলাভ সম্ভাব।

১০। য়ার টেনশন বা অস্থিরতা, বা নার্ভাসনেসে ভোগেন তাদের ক্ষেত্রেও সাঁতার অত্যন্ত উপকারি।

১১।  অমনোযোগী যারা তাঁদের সমস্যা দূর করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হল রোজ সাঁতার কাটা ।

গর্ভাবস্থায় সাঁতার কাটবেন না। স্বাভাবিক প্রসবের অন্তত ছ’প্তাহ পর সাঁতার কাটবেন। কিন্তু সিজার হলে অন্তত ছ,মাস অপেক্ষ করতে হবে, না হলে হার্নিয়া হতে পারে।বুকের কোনো সংক্রমণজনিত অসুখ যেমন সিওপিডি, প্লুরিসি,টিউবারকুলোসিস প্রভৃতি রোগে আক্রান্তরা সাঁতার কাটবেন না। অ্যাষ্কাইলোজিং স্পন্ডইলোসিস-এ আক্রান্ত রোগীরা সাঁতার না কাটাই উচিত। এই রোগে স্পাইনাল কর্ডের যে কোনো দুটো স্পাইনের মাঝে যে কার্টিলেজে-ডিস্ক থাকে তা সামনে বা পিছনে সরে যেতে পারে। ফলে সাঁতারে বিপদের সম্ভাবনা বেশি। মৃগী রোগে আক্রান্ত রোগীদের সাঁতার কাটা দূরে থাক পানির ধারেই যাওয়া উচিত না । যে কোনো সময় এদের অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। হিস্টিরিয়া, আলজাইমার রোগে আক্রান্ত রোগীরা বা পারকিন্সনস ডিজিজ বা যারা কম্পবাতে আক্রান্ত তাদের পক্ষে সাঁতার সম্পূর্ণ নিষেধ। সাঁতার কাটার কোনো বয়স সীমা নেই । মোটামুটি পাঁচ বছর বয়স থেকে সাঁতার কাটা যেতে পারে। অতএব হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে দিনে অন্তত আধা ঘন্টা সাঁতার কাটলে শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বাড়িয়ে  আপনাকে ঝরঝরে রাখবে, সন্দেই নেই ।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Tags:

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।