স্মার্টফোনের মডেল বদলাতে হাতের আইফোনটি বিক্রি করে দিতে চান। তবে অ্যাপলের এ স্বীকারোক্তির পর একটু সাবধান হোন। টেক জায়ান্টটি অনেক সমালোচনার পর স্বীকার করেছে আইফোনে থাকা টেক্সট ম্যাসেজ, ফোন নম্বার, ছবিসহ আরও নানান ব্যক্তিগত তথ্য মুছে দিলেও তা চিরতরে মুছে যায় না। চাইলে কিছু কায়দা ব্যবহার করে পুরনো তথ্য আবারও ফিরিয়ে আনা যায়।

এ কারণে ফোনটি সেল বাজারে তোলার আগে একটু ভেবে দেখুন সেখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত, পারিবারিক, অফিসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বিষয়ে। কেননা এমন কারও হাতে ফোনটি যেতে পারে যিনি এসব তথ্য উদ্ধার করে ফোন বিক্রেতাকের বিপদে ফেলতে পারেন।

মুছে ফেলা তথ্যের নিরাপত্তা বিষয়ক অনেক সমালোচনার পর চলতি সপ্তাহে অ্যাপল এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে।
তথ্যের গোপনীয়তার বিষয়ে এক সময় অ্যাপলকে সাধুবাদ জানানো প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন, এটি একটি ফাঁদ। অ্যাপলের কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাকআপ এনক্রিপশনের মাধ্যমে আইন শৃংখলা বাহিনী কিংবা অন্য যে কেউ নির্দিষ্ট পন্থা অবলম্বন করে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশাধিকার পেতে পারে।

গবেষক জনাথন জেডয়ারস্কি চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হ্যাকার এবং প্ল্যানেট আর্থ সম্মেলনে তার এক উপস্থাপনায় দেখিয়েছেন কিভাবে ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে অ্যাপল বলছে, আইফোনের এ বৈশিষ্ট প্রকৌশলীদের সাহায্য করে।

জনাথন বলেন, ব্যবহারকারীরা জানেনই না যে তাদের অজ্ঞাতে অ্যাপলের এ কার্যক্রম চলছে এবং যা ব্যবহারকারীররা কখনোই বন্ধ করতে পারবেন না। এমনকি আইফোন ব্যবহারকারীদের জানার কোনো সুযোগই নাই যে, তাদের তথ্য ব্যাকআপ প্রসেসরের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে অথবা এসব তথ্য চিরতরে মুছে দেবার কোন সুযোগই রাখা থাকে না।আইফোন

ওই গবেষক বলেন, ফোনটি ধ্বংস করে দেওয়া ছাড়া এসব ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার অন্য কোন উপায় নেই।

এদিকে জনাথনের উপস্থাপনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অ্যাপলের তথ্য ব্যাকআপ রাখার প্রক্রিয়াকে মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএর সঙ্গে আতাতের ফল বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

তবে অ্যাপল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাদের এ প্রক্রিয়ার কোনো যোগসূত্র নেই।

অ্যাপল জানায়, আইওএস বানানো হয়েছে গ্রাহকদের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে যাতে কোনো আপোস করতে না হয়। কিন্তু কারগরি সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য আইটি ডিপার্টমেন্ট ও নির্মাতাদের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। পরে অ্যাপল তাদের ওয়েবসাইটে প্রথম টুলসটির বর্ননা তুলে ধরে।

তবে জনাথনসহ অন্যান্যরা ভবিষ্যতে অ্যাপলের আইফোন প্রোগ্রামে সামান্য হলেও পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন।

নিরাপত্তা সংস্থা সিকিউরোসিসের প্রধান নির্বাহী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ রিচ মুগল জানান, জনাথনের দাবি অতিরঞ্জিত হলেও এর কারিগরি বিষয়গুলো সত্যি। অ্যাপল গ্রাহকদের কাছ থেকে তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তথ্যই গ্রহণ করে।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।