অধ্যাপক মেজর (অব.) মোঃ আশরাফুল ইসলাম: মধ্যকর্নে তরল পদার্থ জমা হওয়ার কারন নিয়ে মতের ভিন্নতা রয়েছে। শিশুদের এডিনয়েড বড় হওয়ার ও গলা মধ্যকর্নের সংযোগনালীর (শ্রুতিনালী) কাজে হেরফের হওয়া, এলার্জি, ভাইরাসের আক্রমন এবং মধ্যকর্নের প্রদাহে অপর্যাপ্ত চিকিৎসা প্রভৃতি এ রোগের কারন বলে মনে করা হয়। এ সমস্ত কারনে মধ্যকর্নে বায়ুর চাপ কমে যায় এবং চারপাশের রক্তনালী হতে তরল পতার্থ মধ্যকর্নে জমা হয়। বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষনে কানে পানি জমা রোগের হার খুবই বেশি এবং এ রোগে আবার সাধারনত ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাই বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। যদিও সহজভাবে সাধারনের বুঝার জন্য পানি জমা বলা হলেও আসলে কিন্তু এই পানি জাতীয় পদার্থ এবং ঘনত্বের পরিমান  অনুযায়ী এক রকম পদার্থ। এটা বিভিন্ন্ রকমের হতে পারে, যেমন- আঠালো রক্তের মতো, পানির মতো ইত্যাতি। কানের মধ্যে প্রদাহের কারনে পানি জাতীয় পদার্থ জমলে সবচেয়ে মজার ব্যাপার এই যে, এই পদার্থে পুঁজ হয় না, তাই এর নামকরন নিয়ে ও বহু বিভ্রান্তি রয়েছে। দেখা যাক এর কি কি নাম ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ থাকে, এই নামকরনগুলো হচ্ছে নন সাপুরেটিভ অটাইটিস মিডিয়া, ইয়ার ক্যাটারাল অটাইটিস মিডিয়া, সিক্রেটরি অটাইটিস মিডিয়া ইত্যাদি। অবশ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর নামকরন অটাইটিস মিডিয়া উইথ ইফুউশন সংক্ষেপে ‘ওএমই’ হিসেবেই বহুল প্রচলিত।

মধ্যকর্নে তরল পদার্থ শিশুর শ্রবনশক্তি হ্রাসের অন্যতম কারন:

শিশু বয়সে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অটাইটিস মিডিয়া উইথ ইফিউশান অন্যতম। এ রোগকে সাধারন ভাষায় ‘গ্লু’ ইয়ার বলা হয়ে থাকে। এ রোগ মধ্যকর্নে পানি জাতীয় তরল পদার্থ জমা হতে শুরু করে এক পর্যায়ে তা আঠালো জাতীয় পদার্থে পরিনত হয়ে শব্দ চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ফলে শিশুর শ্রবনশক্তি হ্রাস পায় এবং ভাষাশিক্ষা বিঘিœত হয়, বুদ্ধিবৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়, স্কুলে দক্ষতা কমে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে শিশুর ব্যবহারের পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। মধ্যকর্নে এ তরল পদার্থ জমা হওয়ার কারন নিয়ে মতের ভিন্নতা রয়েছে। শিশুদের এডিনয়ে বড় হওয়ার ও গলা মধ্যকর্নের সংযোগনালীর (শ্রুতিনালী) কাজে হেরফের হওয়া, এলার্জি ভাইরাসের আক্রমন এবং মধ্যকর্নের প্রদাহে অপর্যাপ্ত চিকিৎসা পভৃতি এ রোগের কারন বলে মনে করা হয়। এ সমস্ত করনে মধ্যকর্নে বায়ুর চাপ কমে যায় এবং চারপাশের রক্তনালী হতে তরল পতদার্থ ম্যকর্নে জমা হয়। এ রোগ যে কোনো বয়সেই হতে পারে। তবে ৪-৭ বছর বয়সে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং দুই কানে এক সঙ্গে হয়। শিশুদের শতকার ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে মধ্যকর্নে সাময়িক সময়ের জন্য এ তরল পদার্থ জমা হতে পারে , যা সাধারনত আপনাআপনি ঠিক হয়ে যায়। তবে এ রোগ হতে পারে এবং শতকরা ৫ ভাগ ক্ষেত্রে এক বছরের বেশি সময় স্থায়ী হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের প্রকোপ এমনিতেই কমে যায়। ৮/৯ বছরের পর তেকে এ রোগের ঝুকি বেশ কম।

কারন: বর্নিত কারনগুলো এই রোগের ধারক ও বাহক বলে সাধারনত মনে করা হয়।

১.কানের ইস্টাশিয়ান টিউব বন্ধ হলে, এই ইস্টাশিয়ান টিউব বন্ধ হয় নাকের পেছনের টনসিল বা এডিনয়েড বড় হলে। নাকের পেছনের ঠিক আলা জিহ্বার উপরের অংশে অর্থাৎ ন্যাজোফ্যারিংসে কোনো টিউমার বা টিউমার জাতীয় রোগ হলে।

২.বিমানে উড্ডয়নের সময় বায়ুমন্ডল ও বিমানের ভেতরর চাপের তারতম্য হলে ইস্টাশিয়ান টিউব বন্ধের কারনে কান বন্ধ হয়ে যায় এবং এটা সাধারণত বিমানে ওঠা-নামার সময় বেশি হয়ে থাকে।

৩.মুখগহ্বরের মধ্যের উপরের তালু জন্মগত কাটা বা ফাটল থাকলে কিংবা তালুর অকার্যকারিতার কারনে।

৪.ধূমপানজনিত কারনে।

৫.পুনঃ পুনঃ সংকটজনক কানপাকা রোগ হলে কিংবা তা ত্রুটিপূর্ন বা অপর্যাপ্ত চিকিৎসার কারনে।

৬.ঘন ঘন শ্বাসনালীর উপরের অংশের প্রদাহ হলে।

৭.নাকের মধ্যে মাংস  বড় হলে কিংবা টিউমার বা টিউমার জাতীয় কোনো রোগ কিংবা সাইনোসাইটিস রোগ হলে ইস্টাশিয় ন টিউব বন্ধ হয়ে কানে পানি জমে।

৮.ভাইরাস জাতীয় জীবানু দ্বারা মধ্যকান আক্রান্ত হলে।

৯.এলার্জিজনিত কারনে।

এছাড়াও আরো অনেক কারন কয়েছে যেগুলো এখনো চিকিৎসা বিজ্ঞানে পরীক্ষাধীন।

চিকিৎসা:

কানে পানি জমা রোগের চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হল

কানের মধ্যে পানি জতিীয় পদার্থ বের করা

সেই সঙ্গে আর যাতে পানি না জমতে পারে তার সঠিক ব্যবস্থা করা।

সুতরাং এর চিকিৎসায় প্রথমে ওষুধ দ্বারা চেষ্টা করতে হবে এবং ওষুধে যদি কোনো উপকার না আসে তবে সম্ভাব্য অপারেশনের দরকার হতে পা

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।