ন্যান্সি ও কনা দুজনই পুরোদস্থর পেশাদার সংগীতশিল্পী। সাধারণত একই জগতের বাসিন্দাদের মধ্যে নীরব দ্বন্দ্ব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ন্যান্সি ও কনা।

সম্প্রতি ন্যান্সির সঙ্গে আলাপচারিতায় কনার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। ২০০০ সালে সংগীত ক্যারিয়ার শুরু করেন দিলশাদ নাহার কনা। অন্যদিকে ২০০৬ সালে ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’ ছবিতে ‘পৃথিবীর যত সুখ’ গানটির মধ্য দিয়ে গানের ক্যারিয়ার শুরু হয় ন্যান্সির।

কনা সম্পর্কে ন্যান্সি বলেন, ‘২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত আমি নেত্রকোনায় থাকতাম। টেলিভিশনে তখন কনার উপস্থাপনা দেখে অনেক ভালো লাগত। একটা সময়ে ‘‘জ্যামিতিক ভালোবাসা’’ নামে কনার প্রকাশিত অ্যালবামটির খবর জানতে পারি পত্রিকার মাধ্যমে। অ্যালবামের কয়েকটি গান আমার ভালো লাগে। তা ছাড়া বিজ্ঞাপনচিত্রে কনার কণ্ঠের জিঙ্গেলও অনেক ভালো লাগত। কণ্ঠের বৈচিত্র্যের কারণে বিজ্ঞাপনচিত্রেও দারুণভাবে সফল কনা।’nancy

ন্যান্সি এও বলেন, ‘ঢাকায় আসার পর শুরুর দিকে আমি হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে গানের কাজ বেশি করেছি। সে সময় হাবিব ভাইয়ের স্টুডিওতে কাজের ফাঁকে কনার প্রসঙ্গ উঠত। হাবিব ভাই বলতেন, কনা এমন একজন শিল্পী যে অনেক শিল্পীরই গান হুবহু তাদের মতো করে গাইতে পারেন। কনার কণ্ঠের এ ধরনের বৈচিত্র্যে আমি রীতিমতো মুগ্ধ।

ন্যান্সি ২০০৬ সালে চলচ্চিত্রের গান দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। তিন বছর পর থেকে মঞ্চে নিয়মিত গাওয়া শুরু করেন তিনি। ন্যান্সি বললেন, ‘২০০৯ সালের দিকে মঞ্চে গান করতে গিয়ে একদিন কনাকে দেখলাম। কনার মঞ্চ পরিবেশনা দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখার ক্ষমতা দেখে আমি মুগ্ধ হলাম। মঞ্চ পরিবেশনার ক্ষেত্রে দেশের অনেক শিল্পীর চেয়েই এগিয়ে আছেন কনা।’

কনার চলচ্চিত্রের গানের প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, ‘আমার কাছে প্রায়ই মনে হয়েছে, চলচ্চিত্রের গানের একজন নিখুঁত গায়িকা কনা। চলচ্চিত্রে গানের জন্য যে ধরনের কণ্ঠের দরকার তার সব যোগ্যতাই কনার আছে। খুব সহজেই সব ধরনের গান কনার কণ্ঠে মানিয়ে যায়। কনা আরেকটু বেশি আন্তরিক হলে চলচ্চিত্রের গানে তার আশপাশে দাঁড়ানোর মতো শিল্পী খুঁজে পাওয়া কঠিন হতো।’

কনাকে ‘জিঙ্গেল কন্যা’ অভিহিত করে ন্যান্সি বলেন, ‘জিঙ্গেলের ক্ষেত্রে কনা পুরোপুরি সফল। বিজ্ঞাপনচিত্রে জিঙ্গেলের ফাঁকে কিছু কথার কারুকাজ থাকে, যা সঠিকভাবে করাটা বেশ কঠিন। কিন্তু কনা খুব সহজেই তা করতে পারেন। আমি একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে জিঙ্গেল গেয়েছিলাম। সেখানে কিছু সংলাপও ছিল, যা আমার পক্ষে দেওয়াটা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। একটা সময় দেখলাম, কনা সেই কাজটি খুব সহজেই করে ফেললেন। পরে জানতে পারলাম, শুধু ওই বিজ্ঞাপনচিত্রে নয়, এ রকম অসংখ্য বিজ্ঞাপনচিত্রে কনার কণ্ঠের সংলাপ দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।’ 

টি মন্তব্য

মন্তব্য বন্ধ

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।