বর্তমান সময়ের বিতর্কিত নায়িকা স্বস্তিকার সাথে কথা হয়েছে আকাশ মিশ্রের । তার সাথে আলাপচারিতার কিছু অংশ তুলে ধরা হল।

প্রশ্নটা সোজাসাপটাই ছিল স্বস্তিকার কাছে৷ আপনি কি বিতর্ক ভালবাসেন? নাকি বির্তক আপনাকে ভালবাসে৷ গলায় পরা রুদ্রাক্ষের মালায় হাত ঘুরিয়ে শুধু এক ফালি হেসেছিলেন আপাতত টলিপাড়ার বির্তকের কেন্দ্রে থাকা নায়িকা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়৷ ঘাড়ের পিছন থেকে চুল টেনে নিয়ে বুকের সামনে ফেলে স্বস্তিকা জানালেন, ‘আমার সোজাসাপটা থাকাটাই মনে হয় কেউ সহ্য করতে পারে না৷ কিন্তু আমার তো এরকমই থাকতে ভাল লাগে!’স্বস্তিকা

‘আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একটু বেশিই উৎসাহী সবাই’

পরিচালক মৈনাক ভৌমিকের নতুন ছবি ‘টেক ওয়ান’-এর প্রধান চরিত্রে স্বস্তিকা৷ এক নায়িকার এমএমএস ক্লিপ ও তাঁর পরবর্তী নায়িকার জীবন নিয়েই তৈরি হয়েছে মৈনাকের এই ছবি৷ আবার ছবির গল্প অনেকটাই নাকি স্বস্তিকার জীবনী থেকে অনুপ্রাণিত৷ নায়িকা স্বস্তিকা কি বলছেন?

স্বস্তিকা: আমার মনে হয়, মৈনাক (পরিচালক মৈনাক ভৌমিক) এই ছবির অনুপ্রেরণা অনেক কিছু থেকেই পেয়েছে৷ কিউ-য়ের ‘গাণ্ডু’, পাওলির ‘ ছত্রাক’, ‘কসমিক সেক্স’৷তবে হ্যাঁ, যেহেতু ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পর থেকে আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একটু বেশিই উৎসাহী সবাই৷ আমাকে নিয়ে নানা বির্তক৷ সেটাও একটা অনুপ্রেরণার জায়গা হতে পারে৷ তবে গোটাটা নয়৷

সেই বির্তকে কি ‘টেক ওয়ান’ নতুন বারুদ যোগ করল?

স্বস্তিকা: একদম৷ টেক ওয়ানের ওই এমএমএস দৃশ্যের শ্যুটের গল্প প্রকাশ পাওয়ার পর হঠাৎই সমাজের চোখে আমি আবার ভিলেন৷ লোকে ভুলেই গিয়েছে, যে ওটা একটা ছবির শ্যুটিংয়ের জন্য শ্যুট করেছি৷ ওখানে আমি নয়, রয়েছে ‘টেক ওয়ান’-এর নায়িকা দোয়েল মিত্র৷ কিন্তু কাকে কি বোঝাব, সবাই এমন ভান করছে যেন স্বস্তিকার এমএমএস ক্লিপই প্রকাশ পেয়েছে৷

তবে এতে কিছু যায় আসে না আমার৷ আমার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে৷

মানে৷ বির্তকে থাকার অভ্যাস করে ফেলেছেন?

স্বস্তিকা: ঠিক তাই৷ আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই৷ বহু মানুষকেই বলতে শুনেছি৷ স্বস্তিকার বর স্বস্তিকাকে দেখে না৷ একা একা মেয়ে নিয়ে থাকে৷ আরও কত কি৷

রাগ হয় না?

স্বস্তিকা: এখন আর হয় না৷ আমি কেয়ার করি না৷ আমি সোজসাপটা বলছি আমি যা করেছি, যা করব, বেশ করব! অভিনয়ের জন্য আমি সব কিছু করতে রাজি!

এই বিন্দাস মনোভাব নিয়ে টলিপাড়ায় চলতে অসুবিধা হবে না?

‘আমি কখনই অতটা ক্যালকুলেট নই’

স্বস্তিকা: ওই যে বললাম৷ আমার কিছু যায় আসে না৷ ভাল অভিনয় করলে, আলাদা করে কিছু করার দরকার পরে না৷

প্রথমে ‘কদলিবালা’, তারপর ‘জাতিস্মর’, ‘টেক ওয়ান’ এরপর পার্থ সেনের ছবিতে মধ্যবয়স্কার চরিত্রে৷ হঠাৎ করে স্বস্তিকা একটু বেশিই এক্সপেরিমেন্টাল নয় কি?

স্বস্তিকা: আমি কখনই অতটা ক্যালকুলেট নই৷ এক্সপেরিমেন্ট করব বলেই ছবি বাছাই করি না৷ চিত্রনাট্য ভাল হলে লুফে নি৷ সেক্ষেত্রে বেশি ভাবি না৷ ‘টেক ওয়ান’-এ ক্ষেত্রেও তাই৷ মৈনাকের কাছ থেকে চিত্রনাট্য শোনার পরেই বললাম, কবে থেকে শ্যুটিং শুরু৷ আমি এরকমই৷

ছবির দোয়েলের সঙ্গে তো আপনার প্রচুর মিল৷ ছবিতে আপনি কতটা দোয়েল কতটা স্বস্তিকা?

স্বস্তিকা: শুধু স্বস্তিকা নয়৷ আমি নিজের আশেপাশের জগত থেকেও অনেক কিছু চুরি করি৷ তারপর নিজের ভাবনা মেশাই৷ ব্যস, ছবির চরিত্র-র জন্য তৈরি হয়ে যাই৷

তা এই ছবির জন্য আশেপাশের জগত মানে কারা? পাওলি দাম?

স্বস্তিকা: কোনও একজন নয়৷ এটা বলতে পারি৷

ছবির দোয়েল মিত্র-র মতো ‘ছত্রাক’ ছবির পাওলি দামের ক্লিপটা প্রকাশ পেতেও তো সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল৷ অভিনেত্রী হিসেবে কীভাবে দেখেছিলেন ব্যাপারটা?

স্বস্তিকা: আমি সব সময়ই এই হিপোক্রেসিকে অপছন্দ করি৷ দেখবও আবার সমালোচনাও করব৷ যা করেছিল পাওলি, অভিনয়ের জন্যই করেছিল৷ আর শুধু অভিনেত্রী কেন? আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক অভিনেত্রীরা রীতিমতো গসিপ বানিয়ে ফেলেছিল বিষয়টিকে৷ একে অপরকে ফোন করে জিজ্ঞেস করছিল, ক্লিপটা দেখেছে কিনা৷ আই হেট দিজ কাইন্ড অফ পিপল৷ জানি আমাকে নিয়েই এ সব হয়৷ ওই যে বললাম, আমি যা করেছি বেশ করেছি৷

ছবিতে মেয়ের সঙ্গে অভিনয়, মেয়ে কি বলছে?

স্বস্তিকা: ওরে বাবা, ওতো ভীষণ এক্সাইটেড৷ মৈনাকের সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব৷ আমি শুধু ওকে বলেছিলাম৷ তুই যেমন ক্যামেরার সামনে তেমনই থাকবি৷ আলাদা করে কিছু করতে হবে না৷

মৈনাকের সঙ্গে বেশ কয়েকটা কাজ করলেন৷ পরিচালক হিসেবে মৈনাক কেমন?

স্বস্তিকা: আমি মৈনাককে পরিচালক হিসেবে দেখিই না৷ ও অনেক বেশি বন্ধুর মতো আমার৷ ওঁর সঙ্গে সব কথাই শেয়ার করা যায়৷ একটু বিতর্ক উসকে দিতে বলতেই পারি, শারীরিক সম্পর্ক ছাড়া মৈনাকের সঙ্গে সব সম্পর্কই আছে আমার (হেসে ফেলে)৷

‘টেক ওয়ান’ ছবির বিতর্কিত দৃশ্য৷

আপনার কি মনে হয়, এই ধরণের বিষয় নিয়ে ছবি তৈরি হলে সমাজ মেয়েদের নিয়ে কম সমালোচনা করবে?

স্বস্তিকা: উত্তর দেওয়াটা মুশকিল! সমাজে নারীরা ঠিক কোন জায়গায় রয়েছে, সেটা কারা মাপছে? আর এই জায়গা মাপামাপির কি আছে৷ নারীদের তাঁদের মতই ছেড়ে দিন৷ পারলে কম সমালোচনা করুন৷ এটা ছাড়া আমার সত্যিই বলার কিছু নেই৷ তবে এই ধরণের ছবি হলে, অন্তত অভিনেত্রীরা যে সিনেপর্দায় অভিনয় করছে, ব্যক্তিগত কিছু নয় সেটা যদি পরিস্কার হয়, তাহলে সেখানেই সাফল্য৷

আর বিতর্ক?

স্বস্তিকা: স্বস্তিকাকে ভালবাসে, কিম্বা স্বস্তিকা ভালবাসে ! (হেসে ফেলে)

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।