উপগ্রহ২০১২ সাল। যাত্রীবাহী বাসের সমান আকৃতির এক স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের সাথে পৃথিবীর সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ৯ মিটার লম্বা এ স্যাটেলাইটের নাম ছিল Envisat। এই মূহূর্তে এ উপগ্রহটি ৪৯১ মাইল উচ্চতায় মহাশূন্যে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভেসে বেড়াচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ উপগ্রহের সাথে অন্যান্য কৃত্রিম উপগ্রহের সংঘর্ষ ঘটতে পারে। আর এর ফলে যে ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হবে সেটা মহাশূন্য থেকে সরাতে লেগে যেতে পারে ১৫০ বছর। কিন্তু তার চেয়েও ভয়াবহ আশঙ্কা হচ্ছে, এ ধ্বংসস্তূপের পৃথিবীর উপর আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, যদি একে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া এ উপগ্রহটির কক্ষপথ আরো বেশ কয়েকটি সক্রিয় উপগ্রহের কক্ষপথের সাথে অবস্থান করছে। এর ফলে কোনো কারণে যদি এটার সাথে যেকোনো একটি উপগ্রহের সংঘর্ষ হয়, তবে সেটা ‘চেইন রিএকশন’ এর মতো অন্য সব কৃত্রিম উপগ্রহের সাথে সংঘর্ষের সূচনা করবে। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় এর নাম দেয়া হয়েছে Kessler Syndrome। ২০০২ সালের মার্চে ইউরোপীয় মহাশূন্য সংস্থা এ উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করে যেটার ওজন প্রায় ১৮ হাজার পাউন্ড। এটার কাজ ছিল পৃথিবীর জলবায়ু, সমুদ্র, স্থল ও বরফ নিয়ে তথ্য সরবরাহ করা। এক হিসেবে দেখা গিয়েছে, পৃথিবীর থেকে ৯০ কিমি দূরত্বে ফিরিয়ে আনতে ২.৭ বিলিয়ন জুল শক্তি প্রয়োজন হবে, লাগবে ১৪৩.১ কেজি অতিরিক্ত হাইড্রাজিন জ্বালানি। আর এরকম করা গেলে, স্বাভাবিকভাবে এ কৃত্রিম উপগ্রহটির পৃথিবীতে ফিরে আসতে সময় লাগবে আরো ২৫ বছর।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।