ডক্টর শ্রীরাম নেনের সঙ্গে তাঁর বিবাহিত সম্পর্কটা তাই একটা ‘পার্টনারশিপ’৷ কিন্তু সব মেয়েরা কি এমন সমানাধিকার পায়? পায় না বলেই তিনি গর্জে ওঠেন ‘গুলাব গ্যাং’-এর রাজ্জো হয়ে৷ কিন্তু মাধুরী দীক্ষিত আসলে কেমন? মাধুরী
জাগতিক: মির্চি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-এর স্টেজে তাঁর মাত্র চার মিনিটের উপস্থিতি৷ বা, সেই মুহূর্তকে সঠিক মুল্য দেওয়ার পরিকল্পনায় কতৃপক্ষের তাঁর ‘দর’মেনে নেওয়া৷ তাঁর ক্রিম ব্লিং শাড়ি৷ ব্লাড-রেড লিপ্সস্টিক৷ খোঁপার সোনালি কাঁটা৷

মহাজাগতিক: গালে সেই বিখ্যাত ব্রণর দাগ৷ মেক-আপের তলায় ফিকে৷ কিন্তু স্পষ্ট৷ সামান্য বাদামি মণির পাড় ঘেরা সেই চোখের তারার ঝিলিক৷ একটা ভ্রু তুলে তাকালেন বলে! সেই ইনফাইনাইট-ওয়াটের হাসি যা এখনও, হ্যাঁ এখনও, যে কোনও নশ্বর ব্যাক্তিকে ভ্যাবলা বানাতে সময় নেবে কয়েক মুহূর্ত৷

মোহিনী৷ মাধুরী৷ কলকাতায় তাঁর পদার্পন তাঁর আগামী ছবির জন্যই৷ কিন্তু ‘গুলাব গ্যাং’-য়ে মাধুরীকে দেখলে কেমন হালকা শিরশিরানি হয়৷ তিনি তো নিশা৷ বা বেগম পারা৷ এ তিনি কোন মানুষ? পরনে গোলাপি, হাতে রক্ত? এ যেন এতদিনের তুলতুলে মনের মাধুরীর মধ্যে মিশে গিয়েছে মহাকালী কপালিনীর বীজ! ‘মৃত্যুদণ্ড’, ‘লজ্জা’কেও ছাড়িয়ে এ তিনি তেমন তিনি? এতদিনের জমানো রাগ, বিষাদ, বেদনা উগরে দিয়েছেন?

উত্তর এল সেরকমই৷ ‘বহু সময়ে আপনি বহু কিছু কাগজে পড়েন৷ বা টিভিতে দেখেন৷ যেটা দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতে আপনার ভেতর একটু একটু করে একটা রাগ জমা হয়৷ মনে হয়, মহিলাদের জন্য আমাদের দেশের আইন কীভাবে সম্পূর্ণ ফেইল করল৷ এখনও মহিলারা, সবাই অবশ্যই নন, যেভাবে ব্যবহৃত হন, সেটা দেখে কষ্ট লাগে না৷ যে অনুভূতিটা বয় সেটা বলবার ভাষা নেই৷ এই অনুভূতিটা আরও বেশি করে কাজ করেছে তার কারণ যে সময়টা আমরা ‘গুলাব গ্যাং’-এর শ্যুট করছিলাম সেই সময়টায় বীভত্‍স সমস্ত কান্ড ঘটছিল দেশে৷ নির্ভয়া ঘটেছিল৷ তাই, আমার মনে হয় সেই ভীষণ রাগটাকেই আমি রাজ্জো চরিত্রটাতে ঢেলে দিয়েছি৷ বিশেষ করে যখন রাজ্জো রড নিয়ে লড়াই করে৷ রাজ্জো মনে করে যখন কথা বা ডায়ালগে কাজ হয় না, তখন রড বা লাঠিই কাজ দেয়৷ সেই জন্য সে বলে ‘রড ইজ গড’৷ এই মেসেজটাই ছবিটাতে আছে- যে এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নারী শিক্ষা কতটা জরুরি৷ আর তার পাশাপাশি পুরুষের যথার্থ শিক্ষাও৷

শিক্ষা ছাড়াও সামাজিক অবিচারের প্রতিও নজর দেয় ছবিটা – যেমন আইন৷ অবিচারের প্রতি আমাদের দেশের আইন যত তাড়াতাড়ি কার্যকরী হয় ততই মঙ্গল৷ যাতে পরের শয়তান লোকটা অভব্য কিছু করবার আগে দু’বার ভাবে৷ ‘লজ্জা’তে আমি ভিক্টম ছিলাম৷ এখানে ক্রুসেডার৷ এই প্রথম আমার উল্টোদিকে ভিলেন একজন মহিলা৷ আমি আর জুহিও কোনও ছবিতে এই প্রথম৷ সব থেকে বড় ব্যাপার, ছবিটা বানিয়েছেন একজন পুরুষ৷ ব্যক্তিগতভাবে এটা জীবনের প্রতি আমায় আরেকটু আশাণ্বীত করে বই কী!’

যখন আপনি আমেরিকা সেরে বলিউডে ফিরলেন, তখন আপনার প্রতি মানুষের রেসপন্স যেন কিছুটা ঈষদুষ্ণ ছিল৷ প্রশ্ন শেষ হল না৷ ‘ঈষদুষ্ণ’ তকমায় চোখের তারায় যেন সামান্য খটকা৷ বললেন, ‘না-না, আমার মনে হয় একেবারেই ‘ঈষদুষ্ণ’ নয়৷ ‘দেড় ইশকিয়া’ তো সমালোচক আর দর্শক, দু’ তরফেই দারুণ রেসপন্স পেয়েছে৷ ফেরার পর ইন্ডাস্ট্রি আর মানুষজন আমাকে অত্যন্ত ঊষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন৷ যেটার জন্য আমি সত্যিই আপ্লুত৷’

তাই বলে কি একটুও ভয় করেনি? যে আমি, মাধুরী দিক্ষীত, সেই ম্যাটিনি সম্রাজ্ঞী, এক সময় যাঁর পায়ের তলায় সারা দেশ লুটিয়ে পড়ত? ‘ভয়? কোনও প্রশ্নই নেই৷ তার কারণ, আমি যখন এখানে ছিলাম, কিন্তু কাজ করছিলাম না, তখনও নানারকম কাজের অফার আমার কাছে আসত৷ তা ছাড়া আমি তো একটা নাচের রিয়্যালিটি শো’য়ের তিনটে সিজন করেইছিলাম৷ দর্শক অপ্রত্যাশিত সাড়া দিয়েছিলেন৷ আমি যা করি সেটাতে অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ৷ কারণ আমি মনে করি, কেউ যদি মেধাবী, পরিশ্রমী আর ডিসিপ্লিনড হয় তাকে ঠেকানো যায় না৷ সেটা আমার ক্ষেত্রেও হয়েছে৷ মানুষ আমার মেধার জন্য আমাকে শ্রদ্ধা করেছেন৷ এখনও করেন৷ তাই ভয়ের কোনও কথাই নেই৷’

জুহি এখানে খল চরিত্রে৷ আপনি কি এমন চরিত্র করবেন? ‘না, শুধুমাত্র করবার জন্য করব না৷ সেটার মধ্যে স্পাঙ্ক থাকতে হবে,’ স্পষ্ট জবাব তাঁর৷ যেমন স্পষ্টই জানিয়েছেন জুহি তাঁর প্রতিদ্বন্দী নন, কন্টেম্পোরারি৷

আপনার হিরোরা – সে শাহরুখই হোক বা সলমন- কিন্তু দিব্বি চালিয়ে যাচ্ছেন৷ তাঁদের কোনও পরিবর্তন দেখেন? মুখে এক চিলতে হাসি নিয়ে বললেন মাধুরী, ‘হ্যাঁ৷ আমি শাহরুখকে অ্যাডমায়ার করি৷ ও ইন্ডাস্ট্রির বাইরে থেকে আসা একটা ছেলে যে ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে নিজের একটা জায়গা করে নিয়েছে৷ আর সেটা কী দুর্দান্ত ভাবে! সবচেয়ে বড় ব্যাপার, সেটা এখনও ও চালিয়ে যাচ্ছে৷ ওর কাজের প্রতি ডেডিকেশন আর পরিশ্রম ক্ষমতা আমাকে বার বার মুগ্ধ করে৷ ও নিজেকে পুরোপুরি নিজের কাজে সঁপে দিয়েছে৷ এটা দুর্মূল্য৷ আমাকে ইন্সপায়ার করে৷ আর সলমনের ব্যাপারে বলতে পারি, যখন ওর সঙ্গে কাজ শুরু করি, ও বেশ দুষ্টু ছিল৷ এখন ওকে দেখি বেশ ম্যাচিওর হয়ে গিয়েছে৷ ওর মতো করে ও চরিত্র নির্বাচন করছে৷’

মাধুরীর রুটিন এখন পাল্টে গিয়েছে৷ ‘এখন তো প্রমোশন এত বড় একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে যে সেটার পিছনেই অনেকটা সময় চলে যায়৷ সক্কাল-সক্কাল সেজেগুজে বেরিয়ে পড়ি৷ নানা জায়গায় গিয়ে ছবিটার কথা বলি৷ মাঝে-মাঝে একঘেয়ে আর ক্নান্ত লাগে৷ কিন্তু মজাও লাগে৷’ দুই ছেলে? ‘ওহ! তারা তো বসে আছে আমায় মারপিট করতে দেখবে বলে! আমি তো আমেরিকায় ওদের সঙ্গে তাইকোন্ডো শিখতাম৷ তাই ওরা আরও বেশি উত্‍সাহী৷ মম, হাউ হ্যাভ ইউ ফট?- এই সব বলে ক্ষ্যাপায় আমায়!’ আর ডক্টর নেনে? ‘আমার হাজব্যান্ড সব সময়েই খুব সাপোর্টিং৷ আমার কাজ নিয়ে প্রাউড৷ আমাদের সম্পর্কটা একটা ইক্যুয়াল পার্টনারশিপ৷ যে সময় ও চাকরি করত, আমি সংসার সামলাতাম৷ এখন আমি কাজ করছি, ও সংসার সামলাচ্ছে৷ নিজেকে বলেন ‘বেবি অফ কমার্শিয়াল সিমেনা’৷ মূলধারার ছবির সন্তান৷ তাই এখনও করতে চান অদ্যন্ত কমেডি৷ রাজ্জোর মতো চরিত্র করলেও কোথাও কি মোহিনীকেই মিস করেন মাধুরী?

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।