বর্তমানে বেশির ভাগ মহিলাই রক্তাল্পতায় ভোগেন৷ এই রোগের ডাক্তারি পরিভাষা অ্যানিমিয়া৷ তবে অনেকেই এই সম্পর্কে খুব একটা জানেন না৷ তবে এই রোগের কারণে মহিলাদের শরীরে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা যায়৷ তাই আপনাদের জন্য রইল অ্যানিমিয়ার কারণ ও প্রতিকার৷Anemia

রক্তে লোহিত রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে তাকেই মূলত অ্যানিমিয়া বলা হয়৷ হিমোগ্লোবিন হল লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত একপ্রকার প্রোটিন যার মধ্যে আয়রন এবং ট্রান্সপোর্টস অক্সিজেন বর্তমান৷ এই অ্যানিমিয়া কিন্তু রক্তের সবচেয়ে সাধারন ব্যাধি৷

উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এই ব্যাধির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি৷ প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলারা অপুষ্টির কারণে এই রোগে আক্রান্ত হন৷ আবার আফ্রিকাসহ বেশ কিছু দেশে ম্যালেরিয়ায় করাণে তীব্র অ্যানিমিয়ার প্রকোপ দেখা যায়৷ যে সমস্ত মহিলা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও অ্যানিমিয়ার প্রভাব পড়ে, এছাড়াও সাধারনত অপুষ্টি ও হেলমিনথিয়াসিস (পরাশ্রয়ী কীট থেকে ছড়ানো রোগ) থেকেই এই ব্যাধির জন্ম হতে পারে৷

দীর্ঘস্থায়ী রক্তপাত হলে সাধারনত অনেকে এদিকে খুব একটা নজর দেননা৷ কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এর কোন চিকিৎসা না হলে রোগীর সাধারন ভাবে রক্তক্ষয়ের মাত্রা বেড়ে যায়৷ এই রক্তক্ষয়ের ম্যাধমে প্রচুর পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা এবং হিমোগ্লোবিন শরীর থেকে বেড়িয়ে যায়৷

অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণগুলি হল:

পাকস্থলীতে আলসার

হেমোরহইডস্

পাকস্থলীতে প্রদাহ বা গ্যাসট্রারাইটিস

পাকস্থলী বা কোলন ক্যানসার

শিশুর জন্মদান

ঋতুস্রাব – যে মহিলাদের ঋতুস্রাবের পরিমাণ অতিরিক্ত হয় তাদের ক্ষেত্রে অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা খুব বেশি৷

অস্ত্রোপচার

রক্তদান – যারা প্রতিনিয়ত রক্তদান করে থাকেন তাদেরও রক্তাল্পতা দেখা যায়৷

অ্যানিমিয়ার উপসর্গ:

যাদের শরীরে রক্তাল্পতা খুব ধীরে ছড়ায় তাদের ক্ষেত্রে তেমন কোন উপসর্গ লক্ষ্য করা যায় না৷ তবে যদি এই রোগ খুব তাড়াতাড়ি ছড়ায় তবে খুব বেশ কিছু উপসর্গও দেখা যায়৷ তেব উপসর্গ মূলত অ্যানিমিয়ার ধরণের উপর নির্ভর করে৷

সাধারন লক্ষণ গুলি হল:

  • ক্লান্তি
  • ঝিমুনী, অনীহা ও আলস্য অনুভূতি
  • অসুস্থতাবোধ
  • শ্বাসকষ্ট
  • মনোসংযোগের অভাব
  • বুক ধরফর করা
  • ঠান্ডা তাপমাত্রায় সংবেদনশীলতা

রক্তপরীক্ষা করলে এই রোগ নির্ণয় করা একেবারেই সহজ৷ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে লোহিত রক্তকণিকার গণনা ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পরিমাপ সম্ভব৷ একজন প্রাপ্ত বয়স্কের ক্ষেত্রে রক্তে লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ ৩২ থেকে ৪৩ শতাংশের মধ্যে থাকতে হয় এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১১ থেকে ১৫ গ্রাম প্রতি ডেসিলিটার হতে হবে৷

অ্যানিমিয়ার চিকিৎসা:

  • অ্যানিমিয়ার প্রধান ওষুধ হল আয়রন সাপ্লিমেন্ট৷ এছাড়াও ফেরাস সালফেট  খাওয়া যেতে পারে৷
  • অ্যানিমিয়ার চিকিৎসার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্যাভাসের পরিবর্তন৷ একমাত্র খাদ্যাভাসের মাধ্যমেই এই রোগের প্রতিরোধ সম্ভব৷ লৌহগুণ সমৃদ্ধ খাবার যেমন, গাঢ় সবুজ শাক-সবজি, খুবানি, বিন, মুসুর ডাল, ছোলার ডাল, সোয়াজাতীয় খাবার, মাংস, আলুবোখরা, বাদাম, কিশমিশ, ভাড়ালি, মাংসের মেটে প্রভৃতি৷

তবে অ্যামিনিয়ার যদি অন্য কোনও কারণ থাকে তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন এবং চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া কোন ওষুধ একেবারেই খাবেন না৷

অ্যানিমিয়ার জন্য বেশ কিছু জটিলতাও দেখা দিতে পারে,

গর্ভবতী মহিলা যাদের সিভিয়ার অ্যানিমিয়া রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা যায়৷ সাধারনত শিশুর জন্মের সময় ও পরে এই সমস্যা গুরুতর ভাবে দেখা যায়৷সাধারনতই শিশুর জন্মের সময় প্রচুর রক্তক্ষয় হয়৷ অ্যানিমিয়া থাকাকালীন প্রচুর রক্তপাত গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে৷ যদি মায়ের শরীরে গুরুতর অ্যানিমিয়া থেকে থাকে তবে শিশু প্রিম্যচিওর এবং অন্ডারওয়েট হতে পারে৷ এছাড়াও শিশু পরবর্তী কালে অ্যানিমিয়ার শিকারও হতে পারে৷

অ্যানিমিয়ার ফলে ক্লান্তি রোগীর জীবনের মানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে৷ গুরুতর অ্যানিমিয়ার ফলে রোগী যে কোন কাজেই অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করেন৷ দীর্ঘদিনের ক্লান্তি মানসিক অবসাদের কারণও হতে পারে৷

অ্যানিমিয়ার রোগীর দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হলে তারা সংক্রমণজনিত কারণে অনেকবেশি পরিমাণে অসুস্থ হন৷

অ্যানিমিয়ার রোগীদের ক্ষেত্রে অক্সিজেন ও পুষ্টিকর উপাদান উৎপাদনের জন্য হৃদপিন্ডের প্রচুর পরিমাণে রক্তের প্রয়োজন হয়৷ এতে বেশিভাগ ক্ষেত্রে হার্ট ফেল হওয়ার সম্ভবনাও থাকে৷

ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতিও অ্যানিমিয়ার একটি কারণ৷ এর ফলে নার্ভের ক্ষতি হতে পারে৷

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Tags:

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।