তোমরা যে বলো দিবস রজনী, ভালোবাসা ভালোবাসা , সখী ভালোবাসা কারে কয়…। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ অমোঘ বাণী, এ অমর সৃষ্টির সফলতা এখন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস কিংবা ভ্যালেনটাইন্স ডে’তে এসে ঠেকেছে। শাশ্বত এ ভালোবাসা অমর হলেও ঘটা করে একটা দিন ভালোবাসা প্রকাশে ব্যস্ত এখন সব বয়সী নারী-পুরুষ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এটি বাংলাদেশেও একটি বড় উৎসব।moushumi-omor-sani

কবির এ ভালোবাসা কারে কয়, প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই অজানা থাকলেও ভালোবাসতে কিংবা ভালোবাসা পেতে কেউ অনাগ্রহী হয় না। যদিও রবীন্দ্রনাথ তার আরেকটি গানে বলেছেন, ভালোবেসে যদি সুখ নাহি, তবে কেন মিছে ভালোবাসা । তারপরও হৃদয় দিয়ে অসুখ কিনতে ব্যস্ত প্রায় সবাই। এ ভালোবাসা র সুখ-অসুখের অনেক গল্প রয়েছে আমাদের চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্রের গোড়াপত্তন থেকেই। যদিও এ ভালোবাসায় সার্থকতা কম, তার পরও প্রেম-ভালবাসায় ভরপুর আমাদের চলচ্চিত্র, চলচ্চিত্র শিল্পে। তবে ভালোবেসে সফল হওয়ার ঘটনাও চলচ্চিত্রে আছে।

সফল মানে, প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা থেকে শুরু করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে অবিচ্ছিন্ন ভালোবাসার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে যারা অবিচ্ছিন্ন থেকেছেন তাদের মধ্যে সবার আগে আসে তারকাজুটি আজিম-সুজাতার নাম। প্রথমে নায়ক-নায়িকা, পরে প্রেমিক-প্রেমিকা, সবশেষে স্বামী-স্ত্রী। আজিমের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এরা সুখী দম্পতি। আজ আজিম না থাকলেও সুজাতার অন্তরে আগের মতোই তার বসবাসপূর্ণ ভালোবাসার সঙ্গে। ভালোবাসার সঙ্গে পূর্ণ বসবাসের আরেক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাঈম ও শাবনাজ। ক্যাপ্টেন এহতেশামের আবিষ্কার নাঈম-শাবনাজ প্রথমে নায়ক-নায়িকা, পরে প্রেমিক-প্রেমিকা, অতঃপর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে এখন পর্যন্ত মহাসুখে দু’কন্যা সন্তানসহ দিনযাপন করছেন। তাদের ভালোবাসার গল্প এখন ইতিহাস। একই ইতিহাস তৈরি করে মহাসুখে জীবনযাপন করছেন ওমর সানি ও মৌসুমী। নাঈম-শাবনাজের পথ ধরে অনেক ঝড়ঝাপটা পার করে ওমর সানি-মৌসুমী আজও আদর্শ ভ্যালেনটাইন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দোয়েল এবং সুব্রতও ছিলেন ভালোবাসার অপূর্ব নিদর্শন। দোয়েল অকাল মৃত্যুর পরও সুব্রতর হৃদয়ে তার ভালোবাসা অটুট।

আবার চলচ্চিত্র শিল্পে ভালোবাসার অনেক বিরহগাঁথাও রয়েছে। রবিঠাকুরের ‘ভালোবাসা কারে কয়’- প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে অর্ধেক পথ হেঁটেও পথ হারিয়ে ফেলেছেন এফ কবীর চৌধুরী-অঞ্জু ঘোষ, জাফর ইকবাল-ববিতা, সোহেল চৌধুরী-দিতি, ইলিয়াস কাঞ্চন-দিতি, সালমান শাহ-শাবনূর, রিয়াজ-শাবনূর, রিয়াজ-পূর্ণিমা, শাবনূর-ফেরদৌস, শাকিল খান-পপিসহ অনেকেই। বরাবরই ভালোবাসার সম্পর্ক নিয়ে গোপনীয়তা কিংবা অস্বীকারের মধ্যে থেকেছেন শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। কাজী মারুফ ও সাহারাও শাকিব-অপুর পথ ধরেছেন। ‘ভালোবাসি’ কথাটি জোর দিয়ে বলতে পারেননি। তারপরও প্রতি মানুষের জীবনেই ভালোবাসার ছোঁয়া আছে। সেটা পাওয়ায় থাক আর না পাওয়ায়। অনেকটা এ একটা দিন ঘটা করে প্রকাশ্যে ভালোবাসাকে প্রাণদান করেন। একদিন পর আবার আগের মতোই। কারও ভেতর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো আক্ষেপ-ভালবাসার পাশেই একটা অসুখ শুয়ে আছে। আবার কারও ভেতর কবি রফিক আজাদের মতো ‘আশাবাদ’ যদি ভালোবাসা পাই, আবার শুধরে নেবো জীবনের ভুলগুলো।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।