কোথায় পালাবে তুমি? নারী হয়ে জন্মেছ,  পুরুষের ভোগের সামগ্রী তোমায় হতেই হবে৷ যতই তোমার গুণ থাক, ঘরে বাইরে যতই তুমি পুরুষের সঙ্গে কর্মক্ষমতায় সমানে সমানে পাল্লা দাও, দিনের শেষে পুরুষ তোমায় বিচার করবে তোমার শরীরী মাপকাঠিতে, তোমার কর্মগুণ দেখে নয়৷
আধুনিক সভ্য সমাজেও এটাই বাস্তব, নগ্ণ সত্য৷ মানুষের সভ্যতার বিজয়কেতন মণ্ডলে পাড়ি দিচ্ছে অথচ এখনও প্রতিদিন নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কত নারীকে সমর্পণ করতে হচ্ছে শরীর, ধর্ষণের ছোট-বড় খবর উঠে আসছে সংবাদ শিরোনামে৷ এই অমঙ্গল কবে বন্ধ হবে? একাকিনী নারীর এই অসহায়তা নিয়েই রাজা সেনের সাম্প্রতিক ছবি ‘খাঁচা’৷ সমাজের উপর এবং নিচের তলা সর্বত্রই ছবিটা একই৷ একলা মেয়ে মুক্ত সিন্দুক, সব পুরুষই চায় ছলেবলে লুঠ করতে৷ কোথায় মুক্তি একাকী  নারীর? সমাজটাই তো তার কাছে ‘খাঁচা’৷
পারুল (পার্ণো মিত্র) অনাথ, গ্রামের সরল সাধাসিধে মেয়ে৷ পারুলের কাকা গ্রাম প্রধানের ছেলের সঙ্গে পারুলকে পাঠালেন শহরে৷ প্রত্যাশা মতোই সে ছেলে সুযোগ নিল এবং চেষ্টা করল পারুলকে বেচে দেবে কিছু টাকার লোভে৷ বাঁচার জন্য পালাল পারুল৷ কিন্তু বাঁচাবে কে? এগিয়ে সমিতা (ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত)৷ সমাজের উপরতলার আর এক একাকী নারী৷ বিবাহ বিচ্ছিন্ন, নামী করপোরেট সংস্হার মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ৷ ছোট্ট অ্যাপার্টমেণ্টে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করে৷ কিন্ত্ত সমিতাকেও কর্মক্ষেত্রে মাঝেমধ্যেই অস্বস্তিকর পরিস্হিতির সম্মুখীন হতে হয়৷ সমিতার ঊধর্বতন রাহুল (অরিজিত দত্ত) একজন নারীলোলুপ৷ সমিতা বুঝতে পারে অসহায় পারুলের অবস্হা, তাই শেষ পর্যন্ত নিজের ফ্লাটেই রাখে পারুলকে৷ এমনকী দুষ্টচক্রের হাত থেকে বাঁচাতে পারুলকে ফ্লাটের মধ্যে তালাবন্ধ করে অফিস যেতে হয় সমিতাকে৷ পারুল তার নতুন পাওয়া দিদির আশ্রয়ে একটু হলেও স্বস্তি পায়৷khaca
খাঁচায় বন্দি পরিস্হিতি থেকে একাকিনী দুই নারীকে উার করতে এরপর যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, সে সুরজিত্‍ (ঋত্বিক চক্রবর্তী)৷ সমিতার বন্ধু, পেশায় সাংবাদিক৷ সুরজিত্‍ শুধু একজন পুরুষ নয়, একজন যথার্থ মানুষও৷ পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মানের এক মানবিক রূপ প্রকাশ পায় তিনটি মানুষের সম্পর্কের মধ্যে৷
সব পুরুষই খারাপ নয়, এখনও অনেক সভ্য এবং ভাল মানুষ আছে, সমিতার মতোই দর্শকদেরও বিশ্বাস করতে ইচেছ হয়৷ এ ছাড়াও সমিতার প্রাক্তন স্বামী অরূপ (ফেরদৌস) এবং শাশুড়ি (খেয়ালি দস্তিদার) এই দুই চরিত্রের স্বল্প উপস্হিতি আছে ছবিতে৷ সমিতা চরিত্রের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, আবেগের বৈপরীত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পর্দায় নিজের স্বাভাবিক অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত৷ তাঁকে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলে পর্দায় এখনও তিনি ম্যাজিক তৈরি করতে পারেন তা বারংবার প্রমাণিত৷ টলিউডে যে কোনও পরীক্ষামূলক নারী চরিত্রে তিনিই এখনও সেরা৷ পাশাপাশি শহুরে চরিত্রের গতানুগতিকতার বাইরে গ্ল্যামারহীন পার্ণো মিত্রকেও ‘পারুল’ হিসাবে বেশ অন্যরকম লেগেছে৷ ঋত্বিক চক্রবর্তী প্রত্যাশামতোই ‘সুরজিত্’ চরিত্রের প্রতি সুবিচার করেছেন৷ মন্দ নন অরিজিত দত্তও৷ তবে ফেরদৌস ও খেয়ালি তাঁদের স্বল্প উপস্হিতিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি দর্শক মনে৷ বিশেষত ঋতুপর্ণার শাশুড়ি হিসাবে খেয়ালিকে মেনে নেওয়া দর্শকদের পক্ষে একটু কঠিন৷
কাহিনির মধ্যে নতুনত্ব না থাকলেও বিষয়টা প্রাসঙ্গিক৷ চিত্রনাট্য এবং ন্যারেটিভ লিনিয়র প্যাটার্নেই এগিয়েছে৷ তবে ছবিটির মূল সমস্যা এর দৈর্ঘ্য, দু’ঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে পারলে নির্মেদ, স্মার্ট উপস্হাপনা হত৷ কোনও কোনও অংশ অহেতুক দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং যুক্তিযোগ্য মনে হয়নি৷ ছবিটা একবার দেখাই যায়, তবে ‘দামু’র মতো ছবির পরিচালকের কাছে দর্শক প্রত্যাশা একটু অন্যরকম ও অতিরিক্ত কিছু পাওয়ার, তাই নয় কি?

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।