সময়টা ১৯৯৭-১৯৯৮৷ সংগীত শিল্পী সুমন চট্টোপাধ্যায়ের একটি গান প্রকাশিত হয়েছিল, যার শিরোনাম ‘জাতিস্মর’৷ তখনও তিনি কবীর সুমন হননি৷ সে সময় ‘জাতিস্মর’ যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিল৷ আর দশজনের মতোই সেদিনের কিশোর সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের মনেও আলোড়ন তুলেছিল গানটা৷ কৈশোর থেকে তারুণ্য, প্রতিষ্ঠিত চিত্র-পরিচালক হয়ে ওঠার এই দীর্ঘ সময়ে যখনই সুযোগ পেয়েছেন ‘জাতিস্মর’ শুনেছেন আর মনে মনে কল্পনার রঙের মিশেলে একটা ছবি ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে৷ সেই কল্পনারই চলচ্চিত্রায়িত রূপ রিলায়েন্স এণ্টারটেইনমেণ্ট এবং ত্যাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়া প্রযোজিত ‘জাতিস্মর’৷ ছবির ট্রেলার লঞ্চ উপলক্ষে গুটিকয়েক তারকা সমন্বয়ে রাজারহাটের অ্যাক্সিস মলে সাংবাদিক সম্মলনের আয়োজন করা হয়৷মঞ্চের দু’পাশে রাখা পর্দায় ‘জাতিস্মর’-এর অংশবিশেষ যখন ফুটে ওঠে, তখন সন্ধ্যা পার হয়ে রাত নামছে৷ পর্দায় অ্যাণ্টনি কবিয়াল এবং ভোলা ময়রার গানের লড়াই৷ কখনও আবার পূর্বজন্মের স্মৃতির মুখোমুখি আজকের এক যুবক৷ প্রদর্শিত এই সামান্য অংশেই এক ঝাঁক ভাললাগা পেয়ে বসল উপস্থিত সাংবাদিকদের৷jatismoy
গানের কথা শোনালেন এই ছবির সংগীত পরিচালক কবীর সুমন৷ এই ছবি কিছু মানুষের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল৷ পরিচালক সৃজিত্‍ মুখোপাধ্যায় কবিয়ালদের নিয়ে কাজ করেছেন৷ স্বাভাবিকভাবেই অ্যাণ্টনি ফিরিঙ্গির প্রসঙ্গ এসেছে৷ কিন্ত্ত কখনওই উত্তমকুমার অভিনীত ‘অ্যাণ্টনি ফিরিঙ্গির’-র রিমেক হয়ে ওঠেনি৷ সেই ছবিতে সুর করেছিলেন অনিল বাগচি৷ ওঁর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই এই ছবির সুর করেছেন কবীর সুমন৷ সুমনের কথায়, সেই সময়কে গানে ধরতে গিয়ে পড়াশোনাও করতে হয়েছে বিস্তর৷ আসলে সৃজিত্‍ এই ছবি তৈরি করবার আগে নিজে যতটা রিসার্চ ওয়ার্ক করেছেন, তার রেশ ছড়িয়ে দিয়েছেন ছবির কলা-কুশলীদের মধ্যেও৷ আর এইভাবেই কবিয়ালদের গান, কবিয়ালদের সার্বিক গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘জাতিস্মর’৷‘অ্যাণ্টনি ফিরিঙ্গি’ ছবিতে উত্তমকুমার অভিনীত চরিত্রটাই ছিল মূল কথা৷ এই ছবিতে কিন্তু অ্যাণ্টনি ফিরিঙ্গির পাশাপাশি সমান গুরুত্ব পেয়েছে সেই সময়কার অন্যান্য কবিয়ালরাও৷ অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তের মতে বহুদিন বাদে বাংলা ছবির জগতে আক্ষরিক অর্থে একটা মিউজিক্যাল ছবি তৈরি হল৷ সেই ছবির নাম ‘জাতিস্মর’৷
ছবির প্রধান চরিত্র প্রসেনজিত্‍ চট্টোপাধ্যায় এদিন কোঁচানো ধুতি, কালো পাম শু আর কাজকরা আদ্দির পাঞ্জাবিতে সম্পূর্ণ বাঙালি হয়ে উঠেছিলেন৷ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ে যেমন পরিণত, চেহারাতেও তেমনই সৌম্য ও ব্যক্তিত্বময় প্রসেনজিত্৷ কবীর সুমন তো বলেই ফেললেন, আমি ভাবছি এই সৌম্যকান্ত পুরষটিকে দেখবার পর বাংলার মেয়েদের কি হবে? সৃজিতের পরিচালনায় এটা প্রসেনজিতের চতুর্থ ছবি৷ প্রসেনজিতের মতে, বাংলার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বাংলায় ছবি করি বটে, তবে সচরাচর বাঙালি হয়ে উঠবার সুযোগ পাই না৷ সৃজিতের এই ছবিতে আমি সম্পূর্ণভাবে বাঙালি হয়ে উঠতে পেরেছি৷
প্রেসিডেন্সি কলেজের অনুষ্ঠানে ছাত্রাবস্হায় সৃজিত্‍ প্রথম শুনেছিলেন ‘জাতিস্মর’৷ সৃজিত্‍ জানালেন, বুম্বাদা-এর আগে বহু ভাল ছবিতে অভিনয় করেছেন৷ কিন্তু আমার মনে হয় প্রসেনজিত্‍ চট্টোপাধ্যায় এই ছবিতে তাঁর সেরা কাজটা করেছেন৷ বাংলা গানের ইতিহাসটা অনেক বড়৷ আমি শুধু তার একটা সময়কে ‘জাতিস্মর’ ছবিতে ধরবার চেষ্টা করেছি মাত্র৷ রিলায়েন্স এণ্টারটেইনমেণ্টের সিইও মহেশ রামানামন বললেন, এর আগে আমাদের প্রত্যেকটা ছবি আপনাদের ভাল গেলেছে৷ আমি আশা করব সেই ছবিগুলির মতো এই ছবিও আপনাদের প্রাণ-মন জয় করে নেবে৷ এদিন ওঁরা ছাড়াও মঞ্চে উপস্হিত ছিলেন ত্যাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার রানা সরকার, সহকারী সংগীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত এবং ‘ক্যাকটাস’-এর সিধু৷

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।