দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে ছিল ২০০২ সালে গাড়িচাপা দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে সালমান খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচারের কার্যক্রম।

সম্প্রতি মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া আরেক দফা পিছিয়ে গেল। সালমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ২৩ ডিসেম্বর থেকে মামলাটির বিচারের কার্যক্রম নতুন করে শুরু করার আদেশ দিয়েছেন বিচারক ডি ডব্লিউ দেশ পাণ্ডে।Salman

মামলার বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পুনরায় খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছিলেন ‘দাবাং’ তারকা সালমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি মামলার বিচারকাজ নতুন করে শুরু করার আদেশ দেন বিচারক দেশ পাণ্ডে। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্দো-এশিয়ান নিউজ।

এ প্রসঙ্গে সালমানের আইনজীবী শ্রীকান্ত শিভেড বলেন, ‘নতুন করে বিচারকার্যক্রম শুরু হওয়ার পর চূড়ান্ত রায় পেতে কত দিন সময় লাগবে তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। বিচারকাজ শেষ হতে কত দিন সময় লাগবে তা নির্ভর করছে বিভিন্ন আলামতের সত্যতা যাচাই, সাক্ষীর সংখ্যাসহ আরও নানা বিষয়ের ওপর। আশা করছি, চূড়ান্ত রায় পেতে আমাদের খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।’

২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে বান্দ্রায় একটি বেকারির সামনে ফুটপাতে ঘুমিয়ে ছিলেন পাঁচজন হতদরিদ্র মানুষ। সে সময় সালমানের টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িটি তাঁদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও চারজন আহত হন। দুর্ঘটনার সময় সালমানের সঙ্গেই গাড়িতে ছিলেন পুলিশ দেহরক্ষী প্রয়াত রবীন্দ্র পাতিল। তিনি বারবার সালমানকে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালাতে অনুরোধ করলেও তা শোনেননি সালমান। মাতাল অবস্থায় তিনি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার গতিবেগে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতের ওপর ঘুমিয়ে থাকা মানুষদের চাপা দিলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অবশ্য বরাবরই সালমানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় তিনি গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন না। ২০০৫ সালে সালমানের বিচারকার্যক্রম শুরু হয়। কোনো এক অজানা কারণে তাঁর প্রতি নমনীয় আচরণ করেন আদালত। বেপরোয়া ও অসতর্কভাবে গাড়ি চালানোর কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে রায় দেওয়া হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪(১) ধারায় এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা মাত্র দুই বছরের কারাদণ্ড।

পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে সালমানকে কঠোর সাজা দেওয়ার দাবি তোলা হয় মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে। পরে মামলাটির বিচারকার্যক্রম আবার শুরু হয়। যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪(২) ধারায় সালমানের সাজা হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয় আদালতের পক্ষ থেকে। গুরুতর এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড।

বিষয়টি জানার পরপরই আপিল করেন সালমান। কিন্তু গত জুন মাসে তাঁর আপিল খারিজ করে দিয়ে মুম্বাই সেশন কোর্টের বিচারক ইউবি হেজিব জানান, ভারতীয় পেনাল কোডের ৩০৪(২) ধারায় সালমানের বিচারকার্যক্রম চলবে।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।