জেন-এক্সের হার্টথ্রব আলিয়া ভাটকে নিয়ে কাশ্মীরের আরু ভ্যালিতে শ্যুট করে এলেন ইমতিয়াজ আলি৷ প্রেম, প্রকৃতি, আলিয়া কেমন একাত্ম হল, শুনাচ্ছেন সৌম্যদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

‘হিমাচলের কাজার পথে কেমন এলোমেলো ঘুরে বেড়িয়েছে সেই মেয়ে, কখনও পা মেলে পথের পাশে ধাবায় বসে খেয়েছে আবার কখনও টান হয়ে শুয়ে পড়েছে কাশ্মীরের জনহীন কোনও জনপদের সরণিতে…৷’ বক্তার নাম ইমতিয়াজ আলি৷ আর যে মেয়ের কথা তিনি বলেছেন তিনি আলিয়া ভাট৷ নতুন ছবি ‘হাইওয়ে ডায়েরিজ’-এর শ্যুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে আলিয়া কেমন একাত্ম হয়ে গিয়েছেন তা বর্ণনা করতে গিয়েই এ সব কথার উল্লেখ৷
alia-bhatt-highway-dairy
কি নিয়ে ছবি? কেন প্রেম! কখনও হিমালয় ঘেরা সিমলা (যব উই মেট), কখনও বা বরফ মোড়া কাশ্মীর (রকস্টার)… বার বার এ সব জায়গায় প্রেমকে খুঁজেছেন ইমতিয়াজ আলি৷ তাঁর সে খোঁজ শেষ হয়ে যায়নি৷ এখনও তা চলছে সমান উদ্যোগে৷ নতুন ছবিতেও আরও একবার সেই খোঁজে বেরোলেন৷ এ বার বেছে নিয়েছেন কাশ্মীরের আরু ভ্যালি, যা কিনা ভারতের উচ্চতম উপত্যকা৷ সেখানে একসঙ্গে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে প্রেমের নতুন সংজ্ঞা, নতুন অর্থ খুঁজে পায় এক যুগল৷ ৯৯ শতাংশ বলিউডি ছবির মতোই৷ কিন্ত্ত স্থান, কাল, পাত্রের সূক্ষ্ম মোচড়ে কোথায় যেন আলাদাও৷ তা নিয়েই পর্দায় লেখা হচ্ছে ‘হাইওয়ে ডায়েরিজ’৷

কেন বার বার প্রেম নিয়ে এমন অনুসন্ধান? ইমতিয়াজ বললেন, ‘আজ পর্যন্ত আমি প্রেম ব্যাপারটা পুরোপুরি বুঝেই উঠতে পারিনি৷ আমার তো মনে হয় প্রেমের সত্যিকারের সংজ্ঞা কারোরই জানা নেই৷ যদি জানা থাকতো তাহলে ‘মহাব্বত হ্যায় কেয়া চিজ হাম নেহি জানতে’ কিংবা ‘কেয়া ইয়েহি পেয়ার হ্যায়’ এর মতো গানগুলো তৈরি হতো না, আর আমরাও দশকের পর দশক ধরে এই গানগুলো শুনতাম না৷’

ইমতিয়াজ জানিয়েছেন ছাত্রাবস্থায় বলিউডের প্রেমের ছবিগুলো দেখেই প্রেমের ব্যাপারে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়৷ স্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে অক্ষম হন৷ তাঁর তো মনে হয় প্রেমের স্পষ্ট ধারণাটা এখনও অধিকাংশ বিবাহিত অথবা অবিবাহিত যুগলের কাছেই যথেষ্ট স্পষ্ট নয়৷ ইমতিয়াজ বলেন, ‘যখন ছাত্র ছিলাম, তখন অনেক সিনেমা দেখতাম৷ তাতে ছেলে-মেয়ের প্রেমে পড়ার গল্প থাকতো৷ আর তাদের মিলিত হওয়ার পথে নানা বাধার কথা থাকতো৷ কখনও সে বাধা বাবা-মায়েদের তরফে, কখনও বা আর্থ-সামাজিক কারণে, আবার কখনও বা সামাজিক নিয়ম-কানুনই বাধা হয়ে দাঁড়াতো৷ সে সব বাধা কাটিয়ে কেমন করে ছেলে-মেয়ে দুটোর মিলন সম্ভব হল, তাই-ই থাকতো ছবিতে৷’ ইমতিয়াজ মনে করছেন এখন ছবির গল্প অনেক বেশি নাগরিক হয়ে উঠেছে৷ এখন প্রেমের পথে বাধা নয়, প্রেমের সম্পর্কের আভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনগুলো এখন অনেক বেশি করে উঠে আসছে ছবিতে৷

ইমতিয়াজ বলেন, ‘বিশেষ করে শহরে বেশিরভাগ বাবা-মা’ই তাঁদের ছেলে-মেয়েরা নিজেদের পছন্দে বিয়ে করতে চাইলে সায় দিয়ে দিচ্ছেন৷ অর্থাত্ প্রেমের পথে বাধা আর রইলো না৷ কিন্ত্ত সেখানেই তো ব্যাপারটা শেষ হয়ে যাচ্ছে না৷ অন্য অনেক কিছু নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে৷ হয়তো মেয়েটা রাতে ঘুমানোর সময় জোর নাক ডাকে৷ এই কারণেই ছেলেটার মনে হল নাঃ সম্পর্কটা একেবারেই ঠিকঠাক যাচ্ছে না৷ ছেলেটা অন্য কোনও মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হল৷ কিন্ত্ত পরে মনে হল এ মোটেই ভালো মেয়ে নয়, আগের মেয়েটা নাক ডাকলেও তার মনটা ছিলো ভালো৷ তখন আবার তার কাছে ফিরতে চাইলো৷ এইভাবেই সম্পর্কের মানে বদলে বদলে যেতে থাকে৷’ অর্থাত্ ইমতিয়াজ যা বলতে চাইছেন তা হল, প্রেম সম্পর্কে ধারণাটা বার বার বদলে বদলে গিয়েছে এবং আরও বদলাবে৷

বোঝা গেল৷ কিন্ত্ত, ‘হাইওয়ে ডায়েরিজ’ ছবিটাতেও কি সেই দুটো ছেলে-মেয়ের বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার গল্প? ইমতিয়াজ হেসে বললেন, ‘হ্যাঁ আমার ছবিতে বার বার ছেলেমেয়েদের পালিয়ে যাওয়ার কথা থাকে৷ আমি নিজে পালিয়ে যেতে ভালোবাসি তো, তাই পালিয়ে যাওয়া ছেলে-মেয়েদেরও পছন্দ করি৷’ ‘হাইওয়ে ডায়েরিজ’-এ হরিয়ানার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল, রাজস্থানের মরুভূমি থেকে শুরু করে কাশ্মীরের তুষার মোড়া এলাকায় শ্যুট করা হয়েছে এই ছবি৷ আর নায়ক রণদীপ হুদার সঙ্গে নায়িকা আলিয়া ভাটের বয়সের তফাত্ প্রায় ২০ বছর৷ তা এমন ছবির জন্য মুম্বইয়ের জুহু এলাকার মেয়ে আলিয়াকে কেন বাছা হল? ইমতিয়াজ বলেন, ‘আলিয়া নিজে এর আগে কখনও এমন আশ্চর্য সব জায়গায় যায়নি৷ একদিন সকালে তো আমি দেখলাম ও কাশ্মীরের গ্রামবাসীদের সঙ্গে এক্কেবারে আন্তরিকভাবে গপ্পো জুড়ে দিয়েছে৷ ওই সব গ্রামবাসীরা প্রায় সকলেই মেষপালক৷ তাদের সঙ্গে ও ভীষণ মিশে গেল৷ আমি ওকে বোঝালাম ওদের সঙ্গে আমাদের মিল কোথায়৷ এই মেষপালকেরাও দিনের শেষে নিজেদের গ্রামে ফিরে যাবে ঠিক যেমন আমরা শ্যুটিং শেষে ফিরবো মুম্বই৷’

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।