‘বচ্চন’-এর শ্যুটিং৷ পায়েল সরকারের কবজির হাড় ডিসলোকেটেড৷ তাও রাত পর্যন্ত শ্যুটিং চালিয়ে গেলেন৷ কেন?

বিবিএম ডেলিভারড৷ উত্তরও তত্‍ক্ষণাত্‍৷
এরপর ফোনের ওপারে নায়িকার কণ্ঠস্বর৷ একেবারে অন্যদিনের মতোই৷ আপনি বিবিএম পড়ছেন কী করে? বলতেই পায়েল সরকার হেসে বলছেন? ‘আমি তো সব বাঁ হাতে করছি৷ খেলামও বাঁ হাতে৷’ কিন্ত্ত কেন? আহা, গপ্পো যে সেখানেই!payel
গ্রাসরুট আর রিলায়্যান্স প্রযোজিত আগামী ছবি ‘বচ্চন’য়ে এবার জিতের সঙ্গে নায়িকা পায়েল সরকার৷ শহর থেকে একটু দূরে লেকল্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে সেই ছবিরই শ্যুটিং করছিলেন পায়েল৷ পরিচালক রাজা চন্দ মনিটরে চোখ রেখেছেন৷ আর নায়িকা চালাচ্ছেন স্কুটি৷ পায়েল বলছেন, ‘গত সপ্তাহে আমার শ্যুটিংয়ে একটা দৃশ্য ছিল৷ আমি স্কুটি চালাচ্ছিলাম৷ কয়েকটা শট ওকেও হয়ে গিয়েছিল৷ বাকি ছিল একখানা মাত্র শট৷ আর আমি সেটাই করতে গিয়ে একটু অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিলাম, নাকি শ্যুটিং স্পটে তার পড়েছিল (আলো তৈরি করতে গিয়ে অনেক সময়ই ছড়িয়ে থাকে ইলেকট্রিক কর্ড), কী করে যেন ডিসব্যালান্সড হয়ে গেলাম৷’
তারপরই নায়িকার কবজিতে কেলেঙ্কারি! স্কুটি অ্যাক্সিডেন্টে রিস্টে চোট৷ ব্যথা৷ একটু ফোলাভাব৷ পায়েল বলছেন, ‘আমি স্পোর্টি কস্টিউমে ছিলাম৷ জিমের পোশাকে৷ এমনিতে তখনই একটা পেইনকিলার খেয়ে নিলাম৷ রিস্ট ব্যান্ড পরে নিলাম৷ সে কারণেই বোধহয় ফোলাটা বাড়েনি৷ তাছাড়া তখনই কাছাকাছি কোনও ডাক্তারও পাওয়া গেল না৷ আমি তখন ভগবানের কাছে শুধুমাত্র প্রার্থনা করছি, আজকের শ্যুটিংটা পার করে দাও, আজ যেন শ্যুটিং ক্যানসেল করতে না হয় আমার জন্য৷’ সন্ধে গড়াল৷ নায়িকা আবারও একটা পেনকিলার মুখে চালান করলেন৷ অন-ক্যামেরায় মুখে হাসি৷ অফ ক্যামেরা যন্ত্রণা৷ পায়েল বলছেন, ‘আমার এমন হয়েছে বলে ইউনিটের সকলে আমার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠছিল৷’ কিন্ত্ত শ্যুটিং বলে কথা৷ চলল৷ বেশ রাত পর্যন্ত৷ এরপর জিত্‍ ফোন করেন অ্যাপোলোতে৷ বলেন, পায়েল যাচ্ছে৷ একটু ঠিক করে দেখে দিতে হবে৷ পায়েল বলছেন, ‘আমি যখন পৌঁছেছি একটু রাত৷ তখন দেখেশুনে ওরা বলছে কবজি তো ভেঙে গিয়েছে৷ আমি ভাবছি, তাও ভালো যে শ্যুটিংটা সেরে এসেছি৷’ নায়ক ও অন্যতম প্রযোজক জিত্‍ সে প্রসঙ্গেই বলছিলেন, ‘আমায় সত্যিই অবাক করে দিয়েছে পায়েলের এমন মনের জোর৷ ওই যন্ত্রণা নিয়ে শুধুমাত্র ইচ্ছাশক্তির জোরেই ও সেদিনের শ্যুটিং শেষ করল৷’ পরদিন স্পেশ্যাল প্লাসটার! ফ্র্যাকচার হয়নি, নায়িকার কবজির হাড় ডিসলোকেটেড হয়েছে৷ পায়েল বলছেন, ‘ডিসলোকেশন হয়েছিল বলে মাইক্রোসার্জারি করে সেট করে দিলেন ডাক্তাররা৷ অ্যানাসথেসিয়া করেই পুরোটা করতে হয়৷ তারপর বললেন, আমার জন্য স্পেশ্যাল প্লাস্টার তৈরি করে দেওয়া হবে৷ যাতে শ্যুটিংয়ে কোনও অসুবিধে না হয়৷’ এই প্লাস্টার-কে অপটিক্যাল ফাইবার গার্ড নামে ডাকা হয়৷ রং-ও ত্বকের রঙের সঙ্গে এক৷ অবশ্যই খুব ভারী নয়৷ পায়েল বলছেন, ‘এই প্লাস্টার নিয়ে শ্যুটিং করলে খুব একটা কিছু বোঝা যাবে না৷ যদি আমি ফুলস্লিভ পরি৷’
অ্যানাসথেসিয়া আবশ্য হালকা কাবু করেছিল৷ একটু সাপোর্ট নিয়ে চলতে ফিরতে হচ্ছিল৷ আর তার মধ্যে টেনশন৷ যেন শ্যুটিংয়ে ফিরতে পারা যায়৷ পায়েল বলছেন, ‘আমার শিডিউলের মাঝে শ্যুটিং করতে পারলাম না, তার জন্য বাকি সকলে এরকম চাপে পড়ল, এইটা ভেবেই আমার ভীষণ খারাপ লেগেছে এই ক’দিন৷ বাকি সব কাজ বাঁ হাতেই সামাল দিয়েছি৷ কিন্ত্ত বার-বার মনে হচ্ছিল, আর যাই হোক, সোমবার যেন শ্যুটিং করতে পারি৷’ ইচ্ছাশক্তি৷ তার হাত ধরেই নায়িকা আবার শ্যুটিং ফ্লোরে৷ তবে টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে, অন্য অনেক ইন্ডাস্ট্রির মতোই কয়েকটি জিনিসকে খুব পয়া মানা হয়৷ তার মধ্যে অন্যতম হল ‘স্কুটি অ্যাক্সিডেন্ট’৷ ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর শিলিগুড়ি শ্যুটিংয়ে প্রিয়াঙ্কারও হয়েছিল৷ আর ছবিটা বক্স অফিসে কী ব্যবসা করেছিল, সে তো এখন ইতিহাস৷

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।