extralargeপ্রযুক্তি সভ্যতার অন্যতম অনুসঙ্গ ফেসবুক। এর আনন্দ ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খুব কাছের বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ নেই বছর বিশেক। হঠাৎ দেখবেন তার রিকোয়েস্ট, বউ-বাচ্ছা নিয়ে একখান ছবিসহ! এ অন্য রকম পাওয়া যে কারও জন্য।

ভীষণ কষ্টে আছেন, কারও সঙ্গে শেয়ার করার সুযোগ নেই। দিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস, মুহূর্ত সমবেদনা, সহমর্মিতা আর হাজারো প্রেরণাদায়ক কমেন্ট আপনাকে তাজা করে তুলবে।

এমন সাফল্য পেয়েছেন, কিন্তু বহুদূরে থাকায় সশরীরে আনন্দ করতে পারছেন না প্রিয়জন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে। তো ছবিসহ দেন একখান পোস্ট, মুহূর্তে আপনার আনন্দে অংশীদার হবে বিশ্বের নানা প্রান্তের হাজারো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আপনজরা।

এ তো গেলো ফেসবুকের ভালো দিক। এটিরও মুদ্রার উল্টো পিঠ সহসাই বের হয়ে আসছে। কম বিড়ম্বনায় পড়ছে না মানুষ। এই যেমন: ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নজির খুঁজতে বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই, কক্সবাজারের রামু উদাহরণ হয়ে আছে। গতকাল বুধবারই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে পোস্ট দিয়ে জেলে গেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

এমন ঘটনা ছাড়াও আরেকটু চিন্তা করুন; অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে থাকা আপনি বসেছেন ফেসবুকে। অফিসের কর্তা ব্যক্তি বন্ধু লিস্টে থাকায় তা দেখলেন, পরদিন থেকে আপনার চাকরি নেই। এমন বেশ কয়েকটি ফেসবুকীয় ঘটনা প্রকাশ করেছে হাফিংটন পোস্ট;

১. কাজ থেকে অসুস্থতাজনিত ছুটি নিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করা অবস্থায় হাতে-নাতে ধরা খেয়েছে এক সুইস মহিলা! রয়টার্স থেকে জানা যায়, ন্যাশনাল সুইস-প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক নারী কাজ থেকে ছুটি নেন। ছুটি নেয়ার পেছনে কারণ দেখান যে তিনি দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করতে পারছেন না। এজন্য বেশি আলো থেকে দূরে থেকে পরিপূর্ণ বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু দেখা গেল ওই নারী তার বাসায় বসে ফেসবুক ব্যবহার করছেন। তখনই তার চাকরি চলে যায়। ন্যাশনাল সুইস নামের ওই প্রতিষ্ঠান থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়, এ ঘটনাটি তাদের কর্মচারীদের প্রতি বিশ্বস্ততা নষ্ট করেছে। আর ওই নারী থেকে জানা যায়, সে বিছানাতে শুয়ে তার আইফোনে ফেসবুক চেক করছিল।

২. ফেসবুকে একটি সংবেদনশীল মামলার তথ্য তুলে দিয়ে চাকরি হারালেন যুক্তরাজ্যের এক নারী বিচারক। ওখানে তিনি লিখেন, ‘কি করব বুঝতে পারছি না। আমি ভোট নিচ্ছি।’ অর্থাৎ তিনি তার ফেসবুক বন্ধুদের কাছে মামলাটা নিয়ে মতামত চাচ্ছিলেন। তো ফল যা হবার তা-ই হলো চাকরি থেকে বরখাস্ত।

৩. কাস্টমারদের ব্যাপারে অভিযোগ করে চাকরি হারালেন এক মেয়ে ওয়েটার। এশলে জনসন নামের ওই মেয়েটি পিজ্জা হাউস ব্রিক্স-এ কাজ করতেন। তার ফেসবুক ওয়ালে কাস্টমারদের নিয়ে অনুযোগ-অভিযোগ করার কারণে তার চাকরি খেয়ে ফেলে কর্তৃপক্ষ।

সিবিএস নিউজ থেকে জানা যায়, তিনি ওখানে লিখেছিলেন- তাকে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি সময় দুটো টেবিলে কাজ করতে হচ্ছিল। দুটো টেবিল পরিষ্কার করার পর যা টিপস পেলো তার কাছে তা ছিল খুবই কম। তিনি আরো লিখেন, ‘ব্রিক্স-এ খাওয়ার জন্য ধন্যবাদ’। কিন্তু আরেকটু এগিয়ে গিয়ে লিখেন, ‘ব্রিক্সের কাস্টমাররা ‘চিপ (সস্তা)’।

ইউপিএল ডটকমে জনসন বলেন, তিনি তার ওই কাজের দায় স্বীকার করছেন। কিন্তু তিনি এটা আশা করেননি যে, এ কারণে তার চাকরি চলে যাবে। এদিকে, মালিকদের একজন জানান, জনসন কোম্পানির নীতি ভঙ্গ করেছেন। ‘কাস্টমারদের নিয়ে কে কি বললো তা নিয়ে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।’

৪. কাজ ও নিজের বসকে নিয়ে গালাগালি করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন এক নারী। তিনি হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন যে, তার বন্ধু তালিকায় তার বসও যুক্ত ছিলেন। দু-মিনিটের মধ্যেই উত্তর লিখেন বস। কমেন্টে বস লিখেন- ‘তাকে আর পরদিন থেকে অফিসে আসতে হবে না। যে কোনো সময় এসে তার বেতন নিয়ে যেতে পারেন।’ উল্লেখ্য ৬ মাসের পরীক্ষামূলক নিয়োগের ৫ মাস চলছিল ওই নারীর।

সংগ্রহীত

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।