নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে প্লাস্টিক বা টিনে যেসব খাবার থাকে, সেগুলোতে রাসায়নিক পদার্থ বিপিএ-র মাত্রা খুব বেশি৷ এর কারণে গর্ভপাত যেমন হতে পারে, তেমনি নারীরা বন্ধ্যাত্বের শিকারও হতে পারেন৷

ক্যালিফোর্নিয়ার বায়োকেমিস্ট এবং অ্যামেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাকটিভ মেডিসিন এএসআরএম-এর প্রেসিডেন্ট ড. লিন্ডা গিউডিস জানান, টিনজাত খাদ্যে রাসায়নিক পদার্থ বা বিপিএ থাকার কারণে স্বাস্থ্যের যে সব সমস্যা হতে পারে, সেগুলি প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট কাজ এখনো হয়নি৷ তবে যেটুকু কাজ হয়েছে, তাতে বলা যায় যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপিএ গর্ভধারণ এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে থাকে৷ গত মাসে এএসআরএম প্রাকৃতিক রাসায়নিক পদার্থ এবং গর্ভবতী নারীদের উপর এর প্রভাব নিয়ে কাজ করেন৷

বিসফেনল-এ এর সংক্ষিপ্ত রূপ বিপিএ৷ এটি এমন একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক পদার্থ যা হরমোনকে প্রভাবিত করে৷ পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রত্যেকের প্রস্রাবেই এই বিপিএ রয়েছে৷ গত কয়েক বছরে শিশুদের দুধের বোতল এবং পানীয়ের বোতল থেকে বিপিএ সরিয়ে ফেলা হয়েছে৷ তবে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বলছে যে, অন্যান্য টিনজাত খাদ্যে এখনও এটি রয়ে গেছে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে গর্ভপাত হয় ডিম্বানু এবং ক্রমোজোমের কারণে৷

ড. লিন্ডা গিউডিস জানান, টিনজাত খাদ্যে রাসায়নিক পদার্থ বা বিপিএ থাকার কারণে গর্ভধারণ এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে থাকে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ড. রুথ লাথি জানিয়েছেন, ইদুঁরের উপর করা এক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে বিপিএ-র প্রভাবে গর্ভপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়৷

লাথি এবং আরো কয়েকজন গবেষক ১১৫ জন গর্ভবতী নারীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন, যারা অল্প কয়েকদিনের গর্ভবতী৷ এসব নারীদের জীবনে দীর্ঘদিন বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভপাতের ঘটনা ছিল৷ পরে এদের মধ্যে ৬৮ জনের গর্ভপাত হয়ে যায় এবং ৪৭ জন সুস্থ শিশুর জন্ম দেন৷

কিন্তু গবেষণাটি স্বল্প সংখ্যক মানুষের ওপর করায় গবেষকরা এখনই এর সত্যতা সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না৷

লাথি জানান, এমনও হতে পারে, যে নারীটির রক্তে বিপিএর মাত্রা বেশি ছিল, তার অন্য কোনো ধরনের সমস্যা থেকে থাকতে পারে, যার কারণে গর্ভপাত হয়েছে৷ এই গবেষণাটির উদ্দেশ্য হলো নারীদের জানানো, যাতে তারা বিপিএ সম্পর্কে সচেতন হন৷

বিপিএ-র মাত্রা কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে৷ প্লাস্টিকের বাসনে খাবার গরম না করা৷ কেননা তাপের কারণে প্লাস্টিক থেকে বিপিএ নিঃসৃত হয়৷ পানির বোতল সূর্যের আলোতে না রাখা, টিনের খাবার কম খাওয়া৷ এমনকি দোকান থেকে যে রশিদ দেয়া হয়, তা গ্রহণ না করা, কেননা রশিদগুলি এমন একটি জিনিস দিয়ে তৈরি, যাতে বিপিএ থাকে৷ লাথি এও জানান যে, বিপিএ থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা আজকের বিশ্বে আর সম্ভব নয়। সূত্র: এপি

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।