taslima-nasrin.৬পরিচালক সুশান্ত বসু মনে করেন, অন্যান্য চ্যানেলে কাল্পনিক ধারাবাহিক দেখতে অভ্যস্ত দর্শকদের যদি আসল জীবনের কাহিনি দেখাতে পারেন, অনেকটা বিদেশের চ্যানেলের ধাঁচে, তা হলে একটা হইচই ফেলা যাবে।

‘দুঃসহবাস’ পরিচালনার অনেক আগেই তসলিমার কাহিনি নিয়ে ২৬ পর্বে ধারাবাহিক ‘ঝুমুর’ তৈরি করেছিলেন পরিচালক সুশান্ত বসু। “টিআরপি উঠেছিল দেখার মতো”।

জি বাংলা বা স্টার জলসার পালের হাওয়া কাড়ার জন্যই হয়তো তিনি তার নতুন চ্যানেলের জন্য বেছে নিয়েছেন তসলিমার বিতর্কিত কাহিনি।

এ প্রসঙ্গে সতর্কতার সাথে সুশান্ত বলেন, “অন্য চ্যানেলের পালের হাওয়া কাড়তে পারব কিনা জানি না। তবে আকাশ ৮-কে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম দেয়ার জন্য পরিচালক হিসেবে আমাকে চ্যালেঞ্জ তো নিতেই হবে। দেখা যাক।”

এই ধারাবাহিকের কাহিনি অনেকটাই ‘এক্সপিরিয়েন্স অব তসলিমা’।

‘ঢাকা আর কলকাতার জন্য আমার টান সমান,” বললেন তসলিমা। কথায় কথায় জানালেন, এখানকার রাস্তাঘাট চেনেন হাতের তালুর মতোই। কলকাতার সংস্কৃতিমনস্ক মানুষজনের প্রায় সবাইকে চেনেন। “এ পার বাংলার লেখকদের উপন্যাস পড়ছি সেই ছোট থেকেই। ‘আনন্দ পুরস্কার’ পেয়েছি সাহিত্যের জন্য। এই শহর আমার।”

তার আক্ষেপ, অথচ সেই শহর থেকেই তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হল। চার বছর আগের ঘটনার ব্যথায় এখনও সমান কাতর তসলিমা।

“‘দুঃসহবাস’-এর কাহিনি যেন তসলিমার চোখ দিয়ে সমাজকে দেখা,” দাবি করলেন সুশান্তবাবু। “কলকাতায় থাকতে না-পারার দুঃখ তলসিমা কী ভাবে ভুলতে চান জানেন? উনি আমাকে বলেছেন, যখন এই ধারাবাহিকের সম্প্রচার চলবে, তখন মনে করব, আমি কলকাতাতেই আছি!”

উত্তর কলকাতার এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের তিন স্বাধীনচেতা মেয়ের কাহিনি নিয়ে ‘দুঃসহবাস’। বিভিন্ন ভূমিকায় আছেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, অনুরাধা রায়, চান্দ্রেয়ী, বৈশাখী মার্জিত, পীযূষ, সমতা, জয়জিৎ প্রমুখ।

পরিবারের বড় মেয়ে চান্দ্রেয়ী স্বাধীনচেতা, কালো বলে বিয়ে হয় না বাড়ির মেজ মেয়ে বৈশাখীর। আর ছোট বোন সমতা কোনো কিছুই মানে না। “এক ছাদের নীচে থাকার ফলে বোঝা যায়, সামাজিক মূল্যবোধ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে,” মন্তব্য করেন সুশান্তবাবু।

“এই পরিবারের কর্তা আমি। কাজ করে আনন্দ পেয়েছি, কাহিনির মধ্যে টার্ন আছে,” মন্তব্য বিশ্বজিতের।

“আসলে শর্টস পরলে আর সিগারেট খেলেই মেয়েরা প্রগতিশীল হয় না। যে-মেয়েদের আমি দেখাচ্ছি, তারা চিন্তাভাবনায় আর মননে স্বাধীন, প্রগতিশীল। পোশাকের জন্য নয়,” মন্তব্য করলেন তসলিমা।

কাহিনিকার ছাড়াও এই ধারাবাহিকে তিনি কী ভাবে আছেন?

“ধারাবাহিকের এক জায়গায় আমি আছি। এই জায়গাটা বেশ ‘ইন্টারেস্টিং’।” ‘লজ্জা’ উপন্যাসে সুরঞ্জন ছিল ঢাকার ছেলে। এই ধারাবাহিকে দেখানো হয়, সে চলে আসে কলকাতায়। আলাপ হয় একটি মেয়ের সঙ্গে। তাকে কথাপ্রসঙ্গে সুরঞ্জন জানায়, ‘লজ্জা’ উপন্যাসে তসলিমা নাসরিন তার কথা লিখেছেন। “এই ভাবেই আমি আছি এই ধারাবাহিকে”, জানালেন তসলিমা।

“একটি কথা অবশ্যই লিখবেন, পাকাপাকি ভাবে আমি থাকতে চেয়েছিলাম আমার প্রিয় শহর কলকাতায়। সংসার পেতেছিলাম। কিন্তু যত দিন কলকাতায় আমার লেখালেখি ছাপা হবে, আমার কাহিনি নিয়ে নাটক-সিরিয়াল তৈরি হবে, তত দিন ওই শহরে আমি বেঁচে থাকব,” বললেন তসলিমা। দিন কয়েক পরেই উড়ে যাবেন ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে লেকচার দিতে। কিন্তু ব্যস্ত জীবনেও তার মন হু হু করে কলকাতার জন্য। আর কি কোনো দিন এখানে ফিরতে পারবেন?

 

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।