কথা ছিল কিডনী থেকে পাথর অপসারনের। কিন্ত অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে রোগীর কিডনীই অপসারন করে ফেললেন চিকিৎসক। আর এর ’খেসারত’ হিসেবে দেওয়া হয়েছে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া হাসপাতালের ৩৫ হাজার টাকা ফি মওকুফ করে দিয়ে তড়িঘড়ি করে রোগীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।Cardiology

ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কুমারশীল মোড়ের দি ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও স্পেশালাইজড হাসপাতালে। ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তবে এ বিষয়ে থানা কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহ আগে ওই হাসপাতালেই ভুল চিকিৎসায় এক প্রসুতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনার জের ধরে রোগীর বিক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পর পালিয়ে যায় হাসপাতালে কর্মরতরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকূট ইউনিয়নের বিদ্যাকূট গ্রামের কৃষক হান্নান মিয়ার স্ত্রী হাজেরা বেগম (৩০) কিডনীতে পাথর সমস্যা নিয়ে গত ১৯ জুলাই দি ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই রাতেই তার কিডনী থেকে পাথর অপসারন করতে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক মো. ফোরকান আহমদ।

হাজেরা বেগমের স্বামী হান্নান মিয়া ও স্বজনরা জানান, অস্ত্রপচারের পর থেকে রোগীর তলপেটে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভূত হয়। কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। গত শুক্রবার বিকেলে আবার ওই চিকিৎসকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে এক পর্যায়ে জানান, পাথর অপসারন করার সময় রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় কিডনী ফেলে দিতে বাধ্য হন তিনি।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, কিডনী কেটে ফেলার বিষয়ে এর আগে কেউ কোনো কিছু জানা যায়নি। অস্ত্রোপচারের পর কেউ কিডনীও দেখায়নি। তবে অস্ত্রোপচারের পর হাজেরার স্বামীর কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। মনে হচ্ছে, কিডনী খুলে তাঁরা বিক্রি করে দিয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রাতেই রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আপসরফা হয়। নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং হাসপাতালের ফি ৩৫ হাজার টাকা মওকুফ করে দিয়ে রাতেই রোগী ও তাঁর স্বজনদেরকে মাইক্রোবাসযোগে নবীনগরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে চিকিৎসক ফোরকানের মোবাইল ফোনে কল করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। শনিবার সকাল থেকে বিকেলে পর্যন্ত তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীনুল হাসান বেঙ্গলিনিউজকে বলেন, ’ফোরকান আহমেদ ঢাকার শেরে বাংলানগরের নিউরোলজি হাসপাতালের চিকিৎসক। রোগীকে জানিয়েই কিডনী অপসারন করা হয়েছে। এছাড়া রোগীর স্বামী এ বিষয়ে লিখিতও দিয়েছে’।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ’কিডনী থেকে পাথর অপসারন করতে গিয়ে এমন ঘটনা প্রায়ই হয়। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বলতে আমি হয়রান হয়ে গেছি। এ নিয়ে আপসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। রোগী ও তার স্বজনদেরকে বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে’।

জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. আবু সাঈদ শনিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে বেঙ্গলিনিউজকে বলেন, ’একজন সাংবাদিক আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ না পাওয়া যাওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছেনা’।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।