জীবন নিয়ে একেক জনের দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শন থাকে একেক রকম। কেউ বোহেমিয়ান জীবন পছন্দ করেন, কেউ বা চান থিতু হতে।

তবে সাধারণভাবে দেখলে প্রত্যেক মানুষেরই একটা স্থির সম্পর্ক থাকা জরুরি। যে সম্পর্কের কাছে মানুষ পাবে মানসিক আশ্রয়। এ কারণেই মানুষ বিয়ে করে, সংসারী হয়।7f9f9e2c535a81ce3a1a5774dce86a31_12327

তবে সবাই এক রকম নন। অনেকেই বিয়ে করতে চান, কিন্তু ঘর এবং বাইরে সমানতালে সামলাবার জন্য যে আত্মবিশ্বাসটা থাকা দরকার, তার কমতি হয় বলে অনেকেই বিয়ে করে সংসার সাজানোর উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে যান বা দ্বিধাবোধ করেন।

আবার অনেকেই এই নিয়ে ভীত থাকেন যে, স্থায়ী সম্পর্কটা যদি সুখের না হয়? কিন্তু সম্পর্ককে পরিণতি দিলেই যে তা অশান্তির কারণ হবে, এমনটি ভাবাও আত্মবিশ্বাসের অভাবেরই প্রতিফলন।

হয়তো আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে আপনার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। একে অন্যের পাশে থাকেন সব সময়। আপনি তাকে ছেড়ে থাকতেই পারেন না, তাই তাকে বিয়ে করতে চান।

আপনার সঙ্গীও আপনাকে ভালোবাসেন, কিন্তু বিয়ের কথা বললেই হয়তো প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। ভেবে দেখেছেন কি, এর কারণ কী? হয়তো আপনার সঙ্গীরও থাকতে পারে `কমিটমেন্ট ফোবিয়া`।

আপনাদের সম্পর্ক হয়তো অনেক দৃঢ়, তারপরও এই `কমিটমেন্ট ফোবিয়া` সম্পর্কের পরিণতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ভেবে দেখুন তো, আপনারও কি আছে `কমিটমেন্ট ফোবিয়া`? দু’জন মানুষ তাদের সম্পর্ক কোন দিকে নিয়ে যাবেন, তা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।

তারা নিজেদের সম্পর্কতেই খুশি রয়েছেন বলে আরও কিছুদিন এভাবেই থাকতে পারেন, আবার বিয়েও করতে পারেন। জীবনে যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন, তা যেন হয় স্বতস্ফূর্ত।

আপনার সিদ্ধান্তের পেছনে ভবিষ্যত সম্পর্কে দ্বিধা, দ্বন্দ্ব বা নেতিবাচক ভাবনা যেন কোনোরকম ভূমিকা না রাখে। তবে দু’জন মানুষের

মধ্যে বোঝাপড়া থাকলে সমস্ত সমস্যা সামলে একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বেঁচে থাকার আনন্দটাই আলাদা। সেক্ষেত্রে সম্পর্ক পরিণত এবং পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মনে রাখুন এবং ভাবুন

আপনার এবং আপনার সঙ্গীর সম্পর্ক যদি ভালো থাকে তাহলে নিজেদের সম্পর্ককে আরও কিছু দিন সময় দিতেই পারেন। যতদিন বিয়ে করবেন না, ততদিন সম্পর্কের পরিণতি নেই, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। একে অন্যের পাশে থাকা এবং আরও ভালো করে চিনে নেওয়ার মাধ্যমেই আসলে সম্পর্ক পরিণত হয়।

বিয়ে করলেই প্রেমের সম্পর্ক শেষ যায়, এমন ভাবনা মাথার বাইরে রাখুন। বিয়ে মানে নতুন সংসার, নতুন দায়িত্ব, নতুন চাপ- এটা ঠিক। তবে এই দায়িত্ব সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নিলে এই নতুন জীবনের মজাই আলাদা। কে জানে, আপনি হয়তো এসব দায়িত্বের খুঁটিনাটি উপভোগই করবেন।

দুজনের নতুন সংসারে সমস্যা থাকবেই। দু’জন মিলে সামলালে সমাধানের পথ খোঁজা অনেক সহজ হয়। কোনোভাবেই নিজের আগামী জীবন নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা করবেন না।

রোজকার জীবনের স্ট্রেস, টেনশন, দৌড়ঝাঁপ আমাদের থিতু জীবনের প্রতি ভীত করে তোলে। করে তোলে আমাদের কমিটমেন্ট ফোবিক। আমরা সহজে যেমন অন্যের প্রতি বিশ্বাস করতে পারি না, তেমনি কাউকে কথা দিতেও ভয় পাই। আপনার সঙ্গীর যদি এমন সমস্যা থাকে, তাহলে তার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে, আপনি তার জীবনে সমস্যা নন, প্রশান্তির জায়গা। দেখবেন, তিনি ধীরে ধীরে সমস্যা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন।

যদি মনে করেন সমস্যা আপনার নিজের, তাহলে নিজের আয়নায় দাঁড়ান নিজেই। জিজ্ঞেসা করুন নিজেকে,সারাজীবন অস্থিরতায় সাগরে ভেসে বেড়াবেন, না কি চ্যালেঞ্জ গ্রহন করবেন লুফে নিয়ে বিজয়ী হতে?

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।