প্রচণ্ড চাপের মাঝেও দেখা যায় চুপচাপ শান্ত মুখখানি। যত টেনশনই আসুক না কেন, একটা কিছু করে ফেলার অদ্ভুত এক ক্ষমতা আছে সেই মুখে। সন্তানের সকালের নাশতার পাশাপাশি জানালায় লেগে থাকা ঝুলটাও তার চোখ এড়ায় না। নারীর এই চাপ সহনশীলতার কথা এতদিন মুখে মুখে থাকলেও এবার তা স্বীকার করে নিলেন স্বয়ং বিজ্ঞানীরা।workload+heavy+load+woman (1)

আর বিজ্ঞান মানেই তো গবেষণা করে ফলাফল একেবারে চাক্ষুষ করে ছাড়া। দেখা গেল, পুরুষের চেয়ে নারীর চাপ সহ্য করার ক্ষমতা বেশি হওয়ার নেপথ্যে কাঠি নাড়ায় হরমোন। আর সেটা হলো নারীর নিজস্বতা ফুটিয়ে তোলার কারিগর ‘এস্ট্রোজেন’। প্রচণ্ড চাপের সময় এই হরমোনটিই মস্তিষ্কের নেতিবাচক অনুভূতির দুয়ারগুলো সপাটে বন্ধ করে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো ইউনিভার্সিটিতে পরিচালিত গবেষণাটি অবশ্য সরাসরি নারীদের ওপর হয়নি, হয়েছে ইঁদুরের ওপর। একদল স্ত্রী ও পুরুষ ইঁদুরকে বিভ্রান্তিতে ফেলে তাদের ওপর কড়া নজর রাখেন গবেষকরা। সামনে একগাদা কাজ ধরিয়ে দেয়া হয় ইঁদুরগুলোকে। কাজ সম্পন্ন করতে পারলেই মিলবে পুরস্কার।

এরপর তাদের আবার স্মৃতির পরীক্ষায় ফেলে দেয়া হয়। দেখা গেল দ্রুত অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে আসা স্ত্রী ইঁদুরের স্মৃতিশক্তি আগের মতোই অটুট রয়েছে, যেখানে পুরুষদের স্মৃতিতে দেখা দিয়েছে গণ্ডগোল। পরে ওই পুরুষ ইঁদুরগুলোর শরীরে বেশিমাত্রায় এস্ট্রোজেন প্রবেশ করিয়ে দেখা গেছে, তারা স্ত্রী ইঁদুরগুলোর মতোই ধীরস্থিরভাবে সমস্যার সমাধান করে দিতে পারছে। অর্থাত্ মূল ব্যাপারটা লিঙ্গ পরিচয়ে নয়, হরমোনে। চাপযুক্ত কোনো কাজ হাজির হতেই নারীর শরীরে ‘অ্যারোমেটেজ’ নামের একটি এনজাইমের নিঃসরণ ঘটে। এই এনজাইমটি আবার এস্ট্রাডিওল নামের আরেকটি উপাদান তৈরি করে। এই এস্ট্রাডিওলই হলো এক ধরনের এস্ট্রোজেন হরমোন। যার প্রভাবে নারীদের চাপ বোধ করার নেতিবাচক অনুভূতিটা অকার্যকর হয়ে যায়।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।