Leather-handbag-fashionব্যাগের ফ্যাশনে নতুন নতুন কিছু যোগ হবে এটাইতো স্বাভাবিক। তাই এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নানান ডিজাইনের ও নানান রঙের-ঢঙের ব্যাগ। ‘ব্যাগের ক্ষেত্রে আমরা পিওর লেদারকে প্রাধান্য দিই। সঙ্গে জুট, ফেব্রিক্সও রয়েছে। দাওয়াত বা পার্টি থেকে শুরু করে অফিস, ক্লাস, শপিং- সব ধরনের ব্যাগই বেশি ব্যাবহার করি।’ আর এসব ডিজাইনের ব্যাগ পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে আড়ংয়ের শোরুমে। যেখানে বিভিন্ন ধরনের চামড়ার ব্যাগের কালেকশন আছে। ডিজাইনে বেশ বৈচিত্র্য -চারকোনা, থলের আকৃতি, ঝোলা। ত্রিভুজ, ষড়ভুজ, গোলাকার, অর্ধগোলার কত যে আকৃতি। পাটের তৈরি অনেক ডিজাইনের ব্যাগও পাবেন। বিভিন্ন ফেব্রিক্স যেমন- ডুপিয়ান, ভেলভেটও ব্যবহার হয়েছে। ডিজাইনে দেশীয় মোটিফ কলকা, ফুল, নকশিকাঁথা ও জিওমেট্রিক্যাল ফর্ম ব্যবহার হয়েছে। আড়ংয়ের তাগা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে একই থিমের তাগা ব্যাগও আছে।

এনা লা মোডের শোরুমেও পাওয়া যায় ক্লাস আর অফিসে ব্যবহার উপযোগী আর্টিফিশিয়াল লেদার, পিওর লেদার, পাট ও পলিথিনের তৈরি ব্যাগ।

ডিজাইনার অনিকা ওসমান বললেন, ‘এ বছরও তরুণীরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহার করবে বড় ঝোলা ব্যাগ। আমরা ব্যাগের ডিজাইন ও রঙে নতুনত্ব এনেছি। আর দাওয়াত বা অনুষ্ঠানে রাজত্ব করবে ক্লাচ ব্যাগ।’ দেশীয় মোটিফের ক্লাচ ব্যাগগুলোই এবার বেশ জনপ্রিয়।

এছাড়াও আছে জামদানি, কাতান, বেনারসি এবং বাটিকের তৈরি অনেক ডিজাইন ও ভিন্ন আকৃতির ক্লাচ ব্যাগ। কিছু আবার কাতান ও জামদানি কিংবা বুটিক ও কাতানের সমন্বয়ে ডিজাইন করা। আর এনা লা মোডের সব ডিজাইনের ব্যাগেই আয়না দেওয়া আছে। তাই ব্যাগে আর আলাদা করে আয়না রাখার প্রয়োজন নেই। ব্যাগগুলোর বিশেষত্ব এর আকারে। বাক্স-আকৃতি, অর্ধবৃত্তাকার, নৌকা আকৃতি, গোলাকৃতি কত যে ডিজাইন। সব ধরনের অনুষ্ঠানেই এ ব্যাগগুলো মানানসই।

এ তো গেল ফ্যাশন হাউসের কথা। এবার আসি নন ব্র্যান্ড ও বিদেশি ব্যাগের প্রসঙ্গে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে থাকে এসব নন ব্র্যান্ড ও বিদেশি ব্যাগ। এসব ব্যাগ সাধারণত আর্টিফিশিয়াল লেদারে তৈরি। আর্টিফিশিয়াল ব্যাগের মধ্যে সফট ওয়াশ ব্যাগের চাহিদা বেশি। ছিমছাম ডিজাইনের এ ব্যাগগুলোয় রঙের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। কালো, মেরুন, চকোলেটের বদলে জনপ্রিয়তা পেয়েছে নীল, সবুজ, বেগুনি, লেমন, অ্যাশ, লাল ও গোলাপি সঙ্গে সবসময়ের কালো। ডিজাইনে থাকছে মেটাল চেইন ও আংটা। কিছু ব্যাগে স্টোন বা পুঁতির ব্যবহারও চোখে পড়ে। ফ্লাওয়ার মোটিফ বা আলাদা ফুল বসানো ব্যাগও বেশ চলছে। ব্যাগের উপাদানে তৈরি এক বা একাধিক ফুল ব্যাগের পাশে ঝোলানো থাকে। কিছু আবার ব্যাগের ওপর আঠা দিয়ে বসানো।

ক্লাস বা অফিস ব্যাগের পাশাপাশি শপিং মলের এসব দোকানে রয়েছে হরেক ডিজাইনের পার্টি ব্যাগ। পার্টি ব্যাগগুলো সাধারণত আকারে ছোট। তবে বেশ বৈচিত্র্যময়। এসব ব্যাগ মেটাল, ফেব্রিক্স ও কাতানের তৈরি। এ ব্যাগগুলোর চারপাশে মেটালের মোটা বা পাতলা বর্ডার দেওয়া, কোনোটি আবার পুরো ব্যাগে পাথরের কাজে ভরপুর। একরঙা ও বিভিন্ন রঙের পাথরের কারুকাজ। আবার কোনো ব্যাগে তসরের ওপর গুঁড়া চুমকি বা মুক্তা ব্যবহার হয়েছে। তা ছাড়া কাতান কাপড়ের ওপর পুঁতি, জরি বা সিকোয়েন্স কাজের ব্যাগগুলো নান্দনিক। ব্যাগের হাতলেও রয়েছে ভিন্নতা। কোনোটি বৃত্তাকার, চারকোনা, লম্বাটে আবার কোনোটিতে প্লাস্টিকের হাতল।

কোথায় পাবেন : দেশীয় উপকরণে তৈরি ব্যাগগুলো পাবেন দেশীয় ফ্যাশন হাউসে। এর মধ্যে আড়ং, তাহু’জ ক্রিয়েশন, এনা লা মোড, সাদাকালো, কে ক্রাফট, ফোর ডাইমেনশন অন্যতম। এ ছাড়া নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, সীমান্ত স্কয়ার, গুলশানের পিংক সিটি, উত্তরার মাসকট প্লাজায়ও দেশি-বিদেশি ব্যাগ পাওয়া যায়।

কেমন দাম : দেশীয় উপকরণে তৈরি ক্লাস বা অফিস ব্যাগ পাবেন ৫৫০ থেকে ১৪০০ টাকায়। আর পার্টি ব্যাগের দাম ৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা। নন ব্র্যান্ড বা বিদেশি পার্টি ব্যাগ পাবেন ৭০০ থেকে ২০০০ টাকায়। আর ক্লাস বা অফিস ব্যাগ পাওয়া যাবে ৮৫০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। পিওর লেদারের ব্যাগগুলো পাওয়া যাবে ১২০০ থেকে ৬০০০ টাকার মধ্যে।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।