tokবর্তমানে আমাদের দেশসহ ভারত উপমহাদেশের সকল দেশের যুবক যুবতীদের মাঝে নিজের আসল সৌন্দর্য্যকে আড়াল করে রেখে বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী মেখে নিজেকে আরও সুন্দর করার প্রবনতা দেখা যায়। কিন্তু এর ফলাফল কত মারাত্বক হতে পারে তা ওদের জানা নেই।

প্রসাধনী কি: “যে সকল দ্রব্য ব্যবহারের ফলে খুব অল্প সময়ের জন্য সাধারণ মানবিক চেহারাকে আরও আকর্ষনীয় করে তোলে তাই প্রসাধনী”-ব্রিটিনিকা, এনসাইক্লোপিডিয়া। আমেরিকার ফুড, ড্রাগ এ্যাসিসেয়শন সাবান ও চুলে মাখার খুকশি রোধক শ্যাম্পুকে প্রসাধনী হিসেবে বিবেচনা না করে ঔষধ হিসেবে মনে করে। কসমেটিক/প্রসাধনী ও ঔষধের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে ঔষধ/ড্রাগ বাজার জাত করার আগে এর কার্যকারীতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন এ্যাসেসিয়েশনের পরীক্ষা পরবর্তী বাজারজাত করার সম্মতীসূচক সনদ নিয়ে বাজার জাত করতে হয়। কিন্তু কসমেটিক/প্রসাধনী বাজারজাত করার জন্য শুধু মনভোলানো  লেখা, মোড়কে আকর্ষনীয় ছবি এবং চোখধাদানো চমকপ্রদ উত্তেজক বিজ্ঞাপনই যথেষ্ট। তাই যে কেউ ইচ্ছা করলেই বাজারে কসমেটিক/প্রসাধনী পরিবেশন করতে পারে।

কৃতিম সৌন্দর্য্য চর্চার ইতিহাস: পৃথিবীর শুরু থেকেই মানুষ সৌন্দর্য্য প্রিয়, আর নারীরা তার নিজের সৌন্দর্য্য বাড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা করে আসছে তাদের জন্ম লগ্ন থেকে। প্রাচীন কাল থেকে মানুষ তার রুপের মাধুর্য্য বাড়াতে প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত নানা রকম ভেষজ পদার্থ ব্যবহার করত। ৭০০বছর আগে মিশরিয় লোকজন তামার আকরিক ও গুরো এন্টিমনি, ম্যালাকাইট চোখের কাজল হিসেবে ব্যবহার করত এবং মিশরেই সর্বপ্রথম চুলে মাখার সুগন্ধি তেল ও শরীরের জন্য সুগন্ধি তরল পদার্থের ব্যবহার শুরু হয়। এছাড়াও ১৩৫০খৃষ্টপূর্বে মিশরের অধিপতি টুটানখামেনের বাসভবনে সুগন্ধি পাওয়া গিয়েছিল। সর্বপরি ক্লিওপেট্রা ছিলেন রুপচর্চায় শ্রেষ্ট। এর অনেক পরে গ্রীক বিজ্ঞানী ক্লডিয়াস ক্লোড ক্রিম আবিস্কার করেন। অষ্টাদশ শতাব্দির দিকে ইংলান্ডের মেয়েরা লেড কার্বনেটের সাদা পাউডার ব্যবহার করত,  তবে সে আমলে প্রসাধনীর ব্যবহার আসলেই ছিল নগন্য, কিন্তু বর্তমানে তা মহামারির রুপ নিয়েছে।

বর্তমান রূপচর্চা: চুলের স্টাইলের জন্য হেয়ার জেল, হেয়ার কলপ, হেয়ার ক্রিম, হেয়ার সেপ্র, পাম্পিং, উইগ সেটিং, ডাইংসহ বিভিন্ন প্রকার কালার; চোখে আইল্যান, আইশ্যাডো; ভুরুতে আকা চিকন রেখা; ঠোটে চকচকে ভেজলিন, রঙিন লিপস্টিক, লিপলাইনার, লিপগ্লস; দু-গালে ৪/৫ স্তরের ফাউন্ডেশন। এছাড়া হাত পায়ের নখের সৌন্দর্য্য বাড়ানোর জন্য নখের উপর ঘষামাজা, নেইল পালিশের, কারূকার্য খচিত ব্যবহার। এর পরও রয়েছে পারফিউমের ছড়াছড়ি।

প্রসাধনিধীর কাচামাল হিসেবে রাসয়নিক পদার্থের ক্ষতিকর প্রভাব: বিভিন্ন প্রকার রাসয়নিক পদাথের সংমিশ্রনের মাধ্যমেই মূলত তৈরি হয় আধুনিক রূপচর্চায় ব্যবহৃত কসমেটিক সামগ্রি।

সুগন্ধিতে: বাংলাদেশে প্রচলিত পারফিউমগুলো প্রায় ২০-২৫টি রাসয়নিক পদার্থের সংমিশ্রনে গঠিত। এগুলোর মধ্যে বালসাম, বেনজয়েট, বেনজাইল স্যালিসাইলেট, বেনজাইল, ফিক্রেরটিভ, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন উল্লেখযোগ্য। আর পারফিউম ব্যবহারের ফলস্বরূপ ব্যবহারকারীর হতে পারে একজিমা, ইরোথিমা, দাদসহ ভয়ঙ্কর সব চর্মরোগ। পারফিউম শুধু ব্যবহারকারীর শরীরের ক্ষতি করে না, পরিবেশের জন্যও হুমকি স্বরূপ, এতে ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লোরো কার্বন সেপ্র করার সময় বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে পড়ে, যা ওজনস-ও ধ্বংস ও অতি বেগুনি রশ্নির পরিমান বাড়াতে কাজ করে।

চুলের প্রসাধনীতে: চুলে ব্যবহৃত শ্যাম্পু, বিভিন্ন প্রকার জেল, ক্রিম এসব তৈরিতে ব্যবহৃত হয় প্যারিফিনাইলিন ডাই আমিন, রিসরসিনল, প্যারটলুইস ডাই আমিন, এমোনিয়াম পার সালফেট যা সবই আলোক প্রতিক্রিয়াশীল, যার ফলে ব্যবহারকারীর মাথার চামড়াসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্বক চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

চোখের প্রসাধনীতে: সকল বয়সের মুসলীম নারী-পুরুষ এমনকি শিশুদেরও চোখে সুরমা লাগাতে দেখা যায়। সুরমার কিছু ঔষধিগুনও রয়েছে, কিন্তু সুরমায় রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত সীসার উপস্থিতি যা চোখের জন্য বিপদজনক। চোখের আইলাইনার তৈরি হয় সীসা লেড সালফাইড ও গ্যালোনা থেকে যা মানুষের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর।

মুখের প্রসাধনীতে: মুখের ক্রিম তৈরিতে ব্যবহৃত হয় লেলোলিন, এজোডাই, পারফিউম এবং সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হয় প্যারাবন। এসব কিছুর কারনেই প্রায়ই মুখের প্রসাধনী ব্যবহারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে চুলকানী, খিচুনী, ত্বক শুস্ক হয়ে যাওয়াসহ নানা রকম চর্মরোগ দেখা যায়।

ঠোটের প্রসাধনীতে: লিপস্টিকে ব্যবহৃত ইওসিন, এজাডাইড, অলাইন, এ্যালকোহল, কারমাইন, লেনোলিন ইত্যাদি যা ইরিমা ও ইডিমার জন্য দায়ী। সামপ্রতিক মারাত্বক উদ্বেগজনক এক তথ্য জানিয়েছে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব পেনাং(ঈঅচ) তাদের দাবী হচ্ছে লিপস্টিকে ব্রিলিয়ান্ট ব্লু নামক এক প্রকার রং ব্যবহৃত হয় যা চর্মের বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সারের সহায়ক এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।

নখের প্রসাধনীতে: ফরমালআইড ও নিকেলের সমন্বয়ে তৈরি হয়নখ-পালিশ যা চোখের পাতার এলার্জি ও মারাত্মক চর্মরোগের জন্য দায়ী।

আসলে আমাদের সমাজে আমরা সবাই এখন নিজেকে লুকাতে ব্যস্ত আমরা নিজের আসল চেহারা মানুষকে দেখাতে লজ্জা পাই। আমাদের আত্মবিশ্বাস ক্রমস কমে যাচ্ছে। বেসরকারী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পরিসংখ্যন তথ্য মতে, শহরের ৮০% যুবতী দিনে ৩-৪ঘন্টা সময় তাদের রূপচর্চায় ব্যয় করে। এতে সাময়িক ভাবে কিছু সময়ের জন্য তাদের চেহারায় লাবন্যতা আসলেও ফলস্রুতিতে খুবই অল্প বয়সে তাদের চেহারার মাধুর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। বাস্তবে দেখা যায় যারা কৃত্রিম প্রসাধনী কম ব্যবহার করে তুলনামূলক তাদের চেহারার মাধুর্য্য বেশি দিন থাকে।

কৃত্রিম কসমেটিক/প্রসাধনী সম্পর্কে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ঔষধ যেমন মানের পরীক্ষা না দিয়ে বাজারে আসতে পারে না, তেমনি সকল প্রকার প্রসাধনীও যাতে তাদের কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তার পরীক্ষায় পাশ করে বাজারে আসে, সে ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। সরকার যদি এব্যবস্থা কওে তাহলে আমাদের সমাজের অসচেতন মানুষ নানা রকম অপ্রত্যাসিত রোগ থেকে মুক্তি পাবে, পাশাপাশি পরিবেশও দূষিত হবে কম।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।