woman-swimmer

সাঁতার একটি উপযুক্ত ক্রীড়া আমাদের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশের জন্য। যখন প্রখর রোদে চারদিক ঝলসে যায় তখন ঠাণ্ডা পানির নিচে ডুব দিতে কার না ভালো লাগবে? দীর্ঘ গরমের দিনগুলোতে শীতল পানিতে সাঁতার কাটার চাইতে ভালো আর কি হতে পারে। বরফ ঠাণ্ডা পানি শরীরের সাথে সাথে মনেও প্রশান্তির ছোঁয়া বুলিয়ে। দেয় তা সে পুকুর হোক, নদী হোক অথবা শহরের সুইমিং পুলগুলোর পানিই হোক না কেন।

তবে সাঁতার কাটা শুধু যে একটি ভালো ক্রীড়া তাই নয়, এটি আপনাকে প্রশান্তি দেয়ার পাশাপাশি ভাল ব্যায়াম হিসেবেও কাজ করে। যখন হয়ত আপনি পানিতে সাঁতার কেটে ভেসে বেড়ানোর অনুভুতি নিচ্ছেন, তখনও আপনার শরীরের নানা অঙ্গ কিন্তু ব্যায়াম করে যাচ্ছে নতুন কোনও প্রচেষ্টা ছাড়াই।

দৈনন্দিন কাজকর্মের অবসাদ দূর করতে সাঁতারের জুড়ি নেই। সেই সাথে মনকেও করে তোলে প্রশান্ত। এসবের পাশাপাশি শারীরিকভাবে নানা উপকারও পাওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নেই সাঁতারের মাধ্যমে কিভাবে আমাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব-

  • সাঁতার একটি উৎকৃষ্ট মানের এক্সারসাইজ। দিনে এক ঘণ্টা এর অনুশীলনের ফলে সর্বচ্চ ৫০০ কিলো ক্যালোরি পর্যন্ত ঝরিয়ে ফেলা সম্ভব।
  • সাঁতারের সময় পানির তরলতা শরীরের উপরে মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব কিছুটা হলেও প্রতিহত করে ফলে শরীরের উপরে বেশি চাপ পড়ে না। ফলে অনেক সময় ধরে সাঁতার কাটলেও অবসাদবোধ তুলনামূলক কম হয়।
  • সাঁতার একটি অ্যারোবিক এক্সারসাইজও বটে। সাঁতার কাটার সময় বিশ মিনিত সময় ধরে একই গতিতে, একই দূরত্বে যাওয়া আসা করতে পারেন। এই ব্যায়ামটি শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করে, সেই সাথে শরীরের মেটাবোলিজম বাড়াতে সাহায্য করে ও ক্ষতিকারক চর্বি কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • যেহেতু এটি একটি অ্যারোবিক এক্সারসাইজ তাই এর অনুশীলনে কার্ডিও ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় সেই সাথে পানির রেসিস্টেন্স ক্ষমতাকে প্রতিহত করতে গিয়ে শরীরের পেশিগুলো সুন্দর ও শক্তিশালীও হয়ে উঠে অনেক বেশি।
  • আমাদের শরীরের গঠন অনুযায়ী আমরা মাটির সাথে লম্বা হয়ে চলাচল করি। কিন্তু যখন আমরা পানিতে সাঁতার কাটি তখন আমাদের অবস্থান হয় আনুভূমিক। এমন অবস্থা আমাদের শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা দূর হয়ে নিঃশ্বাস নিতে সাহায্য করে।
  • এসব ছাড়াও বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে সাঁতার অনেক উপকারি। যেমন অ্যাজমা রোগীদের জন্য সাঁতার খুবই উপকারি। কারণ সাঁতারের ফলে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় অনেকাংশেই। তাই অ্যাজমার সমস্যাও কমে আসে অনেক।
  • এছাড়া হাই প্রেসারের রোগীদের জন্যও সাঁতার অনেক ভাল একটি এক্সারসাইজ। নিয়মিত সাঁতার কাটলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • সাঁতার কাটার আরেকটি সুফল হল সাঁতারের সময় শরীরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সমন্বয় ঘটে। সাঁতারের সময় মাথা, ঘাড়, দুই হাত, পা, মোট কথা ঊর্ধ্বাঙ্গ ও নিম্নাঙ্গের সকল অঙ্গ এক সাথে কাজ করে। ফলে সব অঙ্গের এক সাথে সমন্বয় ঘটে ও অল্প সময়ে সব অঙ্গের ব্যায়াম সম্পন্ন করা যায়।
  • যাদের পিঠ ও কোমরের সমস্যা আছে তাদের জন্যও সাঁতার একটি উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। এতে মেরুদণ্ড সোজা হয় ও হাড়ের জোড়াগুলো শক্ত হয়ে উঠে।

সব থেকে ভালো ব্যাপার হলো এর জন্য কোন বয়সসীমা নেই। যেকোনো বয়সেই সাঁতার কাটা সম্ভব। তাই যারা শরীর সুস্থ রাখতে চান কিন্তু ব্যায়াম করতে পারছেন না কোন কারনে তারাও সুস্থ থাকার জন্য সাঁতার কাটতে পারেন নিয়মিত। আনন্দের পাশাপাশি শরীর ও মন কে চাঙ্গা করে তুলুন ও সেই সাথে সুস্থতাকে উপভোগ করুন জীবনভর।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।