বাজার ইতিমধ্যে ছেয়ে গেছে নানান স্বাদের কাঁচা-পাকা আমে। কেউ আম দিয়ে রান্না করছেন, কেউবা পাকা আমের মধুর স্বাদ নিতেই ব্যস্ত। সেই সাথে চারদিকে হিড়িক পড়েছে আমের আচার বানানোর। কিন্তু আমের আচার বানানো অনেকের কাছেই মনে হতে পারে ঝামেলার ব্যাপার। আম কাটা, তারপর শুকানো এসব ঝামেলা অনেকেই করতে চাননা। তাই বলে কি তারা আমের আচার খাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকবেন? তা কেন! আপনাদের ঝামেলা থেকে মুক্তি দিতে সহজ কিন্তু মজাদার আমের আচারের একটি রেসিপি দেয়া হল নিচে।pickles-mango-garlic

উপকরন-

আম- ৪ থেকে ৪.১/২ কেজি কেজি
রসুন- ১/২ কেজি
পাঁচফোঁড়ন- ১/২ কাপ
সরিষা – ১/৪ কাপ
সরিষার তেল- ১.১/২ কাপ
শুকনা মরিচ- ৫ থেকে ৬ টা
আখের গুড় – ৩ থেকে ৪ টেবিল চামচ
চিনি- আন্দাজ মত
লবন- আন্দাজ মত
হলুদ- অল্প পরিমানে
সিরকা- ১/২ কাপ কত
জিরা টালা গুড়া- ১ টেবিল চামচ

প্রনালী-

প্রথমে আম ছোট ছোট করে কেটে নিন। এই কাটা আম শুকাতে হবেনা তাই হালকা করে থেঁতো করে নিন। এরপরে লবন ও অল্প হলুদ দিয়ে মাখিয়ে চালুনিতে রেখে দিন ঘণ্টা দুয়েক। এভাবে রাখলে আম পানি বের হবে ও আম থেকে টকভাব কমে যাবে।

যতক্ষণ আম থেকে টকপানি বের হচ্ছে ততক্ষন সময়ের মধ্যে সবটুকু রসুন ভাল করে খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে এর ৩/৪ ভাগ নিয়ে হালকা থেঁতো করে নিন। বেশি থেঁতো করতে যাবেন না। ২/৩ পরিমান পাঁচফোড়ন ও ১/২ পরিমাণ সরিষা নিয়ে এক সাথে টেলে নিয়ে আধা গুঁড়ো করে নিন। এবং বাকি সরিষা ও পাঁচফোড়ন সরিয়ে রাখুন।

এবার চুলায় জাল দিয়ে সরিষার তেল দিন। তেল গরম হলে শুকনা মরিচ ও গোটা পাঁচফোড়ন দিন। এরপরে দিন গোটা সরিষা। সরিষা ও পাঁচফোড়ন একটু ভাজাভাজা হলে এতে থেঁতো ও গোটা সব রসুন এক সাথে দিন। দিয়ে অল্প করে ভাজুন। হালকা ভাজা হলে একে একে টেলে গুঁড়ো করা সরিষা ও পাঁচফোড়নের মিশ্রন, গুড়, লবন দিন। আপনার আচার বেশি টক হবে কি হবেনা তার উপরে ভিত্তি করে গুঁড় দিতে হবে। এরপরে এতে জিরা টালা গুঁড়ো দিয়ে দিন। এভাবে কিছুক্ষন জাল দিন যেন রসুনটা কিছুটা ভাজা ভাজা হয়ে যায়।

এরপরে সিরকা দিন। সিরকা দিয়ে ২ মিনিট জ্বাল দিতে হবে। এবার আম থেকে সব পানি ঝরে গেলে তা ঢেলে দিয়ে দিন ও ভাল করে নাড়ুন। ২ থেকে ৩ মিনিট নাড়ার পর চেখে দেখুন আপনার পছন্দমত টক-মিষ্টি হয়েছে কি না। না হলে আর একটু গুড় দিতে পারেন, গুড় না দিতে চাইলে চিনিও দিতে পারেন। বেশি মিষ্টি লাগলে লবন দিন। সিরকাও দিতে পারেন সবকিছু “ব্যালেন্স” করার জন্য। এর পরে ভালো করে কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। ব্যাস আকাঙ্ক্ষিত স্বাদ পেলে নামিয়ে নিন। হয়ে গেল আপনার মজাদার স্বাদের আম রসুনের ঝুরি আচার।

সতর্কতা-

মনে রাখবেন আম যেহেতু শুকাতে হবেনা তাই ঝুরি গুলো যেন পাতলা হয়। বেশি মোটা হলে ঠিক মত জ্বাল না হলে আচারে ফাঙ্গাস পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। আচারে সিরকা দিতে ভুলবেন না। সিরকা দিলে আচারে ফাঙ্গাস পড়বেনা। এছাড়াও ২ থেকে ৩ দিন পর পর আচার রোদে দিলে অনেকদিন ভাল থাকবে।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।