মানুষ ও অন্য প্রাণীর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে এই যে আমরা শুধু বংশ বিস্তার করার জন্য বেঁচে থাকিনা, আমরা বেঁচে থাকি নিজের জন্য। আমাদের সুখ আছে, আছে দুঃখ ও যন্ত্রণা। পরাজয়ে যেমন হতাশাবোধ আছে তেমনই আছে তেমনই আছে জয়ের আনন্দ। আর এসব কিছুর মূলে আছে সাফল্যের হাতছানি ও সুখী জীবন লাভের আকাঙ্ক্ষা।

আজব শোনালেও এটাই সত্যি যে জীবনে সফল হওয়ার উপরে নির্ধারণ করে জীবনের গতি কোন দিকে মোড় নেবে। তাই ছোট বেলা থেকেই আমাদের শেখানো হয় সাফল্য লাভ করাটা আমাদের জন্য কতটা জরুরি। সেই সাফল্যের পিছে ছুটতে ছুটতে অনেকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই হুমকির মুখে পড়ে। অথচ সাফল্যের মানে শুধু কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়া নয়। জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে সাফল্য যে লাভ করতে পারে সেই আসল সফল ব্যাক্তি।

সফল হতে গিয়ে অনেকেই অনেক কষ্ট সহ্য করেন। কেউ রাতের ঘুম হারাম করেন তো কেউবা দিনের শান্তি। অথচ খুব সহজ কিন্তু কার্যকর ছয়টি উপায়ে জীবনে সাফল্যের মুখ দেখতে পাওয়া সম্ভব। আসুন এই উপায়গুলো সম্পর্কে জেনে নেই।

সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে তুলুন-

আজকাল আমাদের তরুন সমাজ ভার্চুয়াল সম্পর্কের দিকে বেশি ঝুঁকছে। তাদের সুখ, দুঃখ, আশা, নিরাশা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের সবকিছুই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে একে অন্যের সাথে বিনিময় করছে তারা। এর ফলে নতুন বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠছে দৈনিক। এমনভাবে গড়া সম্পর্ক যে খারাপ, তা নয়। তবে সত্যটা হচ্ছে, এসব সাইটের মাধ্যমে সম্পর্ক হলেও বাস্তবে যদি একজন আরেকজনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ না করে তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গভীরতা তৈরি হওয়া সম্ভব না আদৌ। আবার পাশাপাশি বাস করেও যদি আন্তরিকতার অভাব থাকে, তাহলেও সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে না।

তাই ভার্চুয়াল হোক বা বাস্তব, সব সম্পর্কের ক্ষেত্রেই বাস্তব যোগাযোগের মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করুন। আমরা সামাজিক জীব। আমাদের আবেগ কখনই শুধুমাত্র ভার্চুয়াল জীবনের ভেতরে সীমাবদ্ধ হতে পারেনা। তাই একই সাথে সুখ ও সাফল্য লাভের জন্য একবেলা না হয় মুখোমুখি বসে আপন মানুষ বা নতুন বন্ধুদের সাথে সময় কাটালেন। মনে রাখবেন, ভার্চুয়াল লাইফ আপনাকে সাময়িক স্বাচ্ছন্দ্য দিতে পারবে কিন্তু জীবনে সফল ও সুখী করবেনা।

নিজেকে তৈরি করুন-

ManHappyGrass

কর্মক্ষেত্রে ও জীবনের যে কোন ক্ষেত্রে সেই মানুষেরই জয়জয়কার সবচাইতে বেশি হয়, যিনি অন্য সবার চাইতে বেশি যোগ্যতা রাখেন ও বেশি জ্ঞান রাখেন। কর্মক্ষেত্রে উচ্চপদস্থরা তাদের নিচের পদের লোকদের ধীরে ধীরে তৈরি করে নেন, যেন তাদের দায়িত্ব পরবর্তী প্রজন্মের যোগ্য মানুষের হাতে দিয়ে যেতে পারেন। তাই আপনি যদি নিজের জীবনের পরবর্তী ধাপ কি হবে সেইটা নিরুপন করে নিতে পারেন ও সেইভাবে নিজেকে তৈরি করে রাখতে পারেন- তবে আপনি আপনার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নজরে আসবেন সবার আগে। ফলে কর্মক্ষেত্রে আপনার উন্নতি খুব দ্রুত সম্ভব হবে।

সামাজিক ও একান্ত জীবনেও তাই। জীবনের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিকভাবে নিরূপণ করে সেই মোতাবেক নিজেকে তৈরি করতে থাকুন। তাহলে পরবর্তী ধাপে যখন পৌঁছে যাবেন তখন অতিরিক্ত কষ্ট করতে হবেনা। সাফল্য ধরা দিবে খুব সহজেই সেই সাথে জীবন থাকবে সুখময়।

মাঝে মাঝে কাজ করা থেকে বিরত থাকুন-

কখনো কখনো সফল হবার নেশা এত বেশি হয়ে যায় যে অনেকে ভুলেই যান কিসের জন্য এই সফলতা কামনা করছেন তারা। সাফল্যের পিছে ছুটতে ছুটতে তারা হারিয়ে ফেলেন জীবনের স্বাভাবিক আনন্দকে। যখন বুঝতে পারেন তখন হয়ত অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই সব সময় সফলতার পিছে নয়, মাঝে মাঝে জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলকে উপভোগ করুন। সময় দিন পরিবারকে, বন্ধুবান্ধবকে। সব থেকে বড় কথা হল, সময় দিন নিজেকে। একদিন সফল হবার নকশা বোনা বাদ দিয়ে সুখের সাগরে ডুব দিন। ছুটি নিন জীবন থেকে। তারপর যখন আবার সাফল্যের পিছে ছুটতে শুরু করবেন, তখন দেখবেন আপনার সাথে আছে আপনার সুখানুভুতিগুলো। এর ফলে দেখবেন নতুন উদ্যমে সফলতার পানে এগিয়ে যেতে পারছেন আপনি।

কেবল বড় নয়, কর্মক্ষেত্র হিসাবে বেছে নিন ভালো প্রতিষ্ঠান-

কর্মক্ষেত্রে সফলতার চাবিকাঠি নিজের কঠিন সাধনা বলেই মানেন সবাই। কিন্তু কষ্টের ব্যাপার হলো আপনি যেখানে কাজ করছেন সেই প্রতিষ্ঠানটি যদি ভালো না হয়, তবে আপনার কঠোর সাধনা কোনোদিনই কাজে আসবেনা। তাই বড় প্রতিষ্ঠানের আগে বাছাই করতে চেষ্টা করুন আপনার জন্য সঠিক প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য যোগাযোগ বাড়ান অন্যদের সাথে। সেই সাথে নিজের থেকে বেশি সফলদের হিংসা করা থেকে বিরত থাকুন। তার বদলে তাদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করুন। খুজে নিন একজন মেন্টর যার আদর্শে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাবেন। তার কাছে থেকে জানুন আসল কর্মক্ষেত্রে কিভাবে কাজ করতে হয়। আপনি যেখানে কাজ করছেন সেই প্রতিষ্ঠানটি ভালো হলে আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে, উন্নতি হবে আপনারই।

এক সময়ে একটি কাজের দিকে নজর দিন-

আপনি যদি এক সাথে ১০টি কাজ করবেন বলে ভাবেন এবং আপনি তা করতে পারবেন বলে মনে করেন তবে আপনাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু সত্যি বলতে এক সাথে একাধিক কাজ সাফল্যের সাথে করতে পারা মানুষের সংখ্যা এই পৃথিবীতে নগণ্যই বলা যায়। আপনি যদি নিজেকে এমন একজন মানুষ বলে ভাবেন তবে স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে এগিয়ে যান। তবে যদি একাধিক কাজ এক সাথে করা আপনার জন্য সামান্যতম কষ্টকর হয়ে থাকে তবে সেখানেই থামুন। তার থেকে বরং বুদ্ধিমানের মত কাজ করার চেষ্টা করুন। এটা আপনাকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে সহায়তা করবে। দিনের কাজগুলো প্রাধান্যের ভিত্তিতে ভাগ করুন। আর আগে থেকে কোন কাজ করার কথা থাকলে সেই কাজকে মূলে রেখে অন্যান্য প্ল্যান করুন। এতে এক সাথে সব চাপ আপনার উপরে এসে পড়বে না। ফলে আপনি মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ ও শান্ত থাকবেন। ফলে যখন যেটা করবেন সেটা সম্পূর্ণ মনোযোগের সাথে করতে পারবেন। আর কাজে মনোযোগ বেশি হলে সাফল্যের সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে কয়েক গুন।

নিজেকে মুক্ত করে দিন অতিরিক্ত চাপ থেকে-

অনেক সময় যারা জীবন থেকে অতিরিক্ত কিছু চান তারা নিজেরাই হয়ে যান নিজেদের শত্রু। তারা সাফল্য লাভ করাকে জীবনের মূলমন্ত্র ধরে নিয়ে নিজেদের উপরেই অবিচার করা শুরু করেন এইটা না জেনেই যে শেষ পর্যন্ত তিনি এত চাপ সহ্য করতে পারবেন কি না। এমন মানুষেরা নিজেদের পাশাপাশি অন্যদের প্রতিও অবিচার করা শুরু করে। অথচ যদি একবারের জন্য নিজেকে সব কিছু থেকে দূরে সরাতে পারেন তবে বুঝতে পারবেন বর্তমানটাই আসল। এই মুহূর্তে যা অনুভব করছেন তাই সত্যি। আপনার যা আছে তা আপনাকে সুখী করছে কি না তা ভেবে দেখুন। যদি করে তবে বুঝবেন সফলতার মানে হল সুখে থাকা। তাই দিনে অন্তত একবার নিজেকে রেহাই দিন এই ইঁদুর দৌড়ের জীবন থেকে। আপনার যা আছে তাই আসল, যদি এইটা বুঝতে পারেন তবে সব কিছুই আপনার কাছে নিজে থেকে এসে ধরা দিতে বাধ্য। সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, সাফল্য, সবকিছুই। আপনি হয়ে উঠবেন সফল একজন ব্যক্তি, যে একই সাথে সুখীও।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।