20412_469694493072386_2025324099_n

নিটোল পায়ে রিনিঝিনি পায়েলখানি বাজে,
মাদল বাজে সেই সঙ্গেতে শ্যামা মেয়ে নাচে…

…গায়ের রং শ্যামা হোক বা ফর্সা হোক, পায়ের একজোড়া নুপূর যেন গায়ের রঙের সৌন্দর্যকেও হার মানায়! যদিও পায়েল বা নুপূরের চল সেই সুদূর অতীত থেকেই রয়েছে, তবুও বর্তমানে এর আবেদন ম্লান হয়নি এতটুকু।

মেয়েরা শখ করে কেউ দু পায়ে, এক পায়ে নুপূর পরে। এক পায়ের নুপূর অ্যাঙ্কলেট নামেই পরিচিত। আর নাচের জন্য রয়েছে ঘুঙুর। এসবই হলো নুপূরের আদিরূপের নানান অভিনব সংস্করণ।

নুপূর কি গোড়া থেকেই অলংকার ছিল? না, ইতিহাস বলে এ ছিল বাঁধন! যখন দাসপ্রথা চালু ছিল, তখন দাসক্রেতা নতুন দাস কেনার সাথে সাথেই তার পায়ে পরিয়ে দিত ঘুঙুর লাগানো বেড়ি, যা দাসের প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে সাথে বাজত। কোনো দাস পালিয়ে যেতে চাইলে তার ঘুঙুর দ্রুতলয়ে বেজে উঠত এবং মালিক টের পেয়ে যেত। পরিণামে দাসের কপালে জুটত চরম শাস্তি।

দাস প্রথা চলে গেলে নুপূর উঠে আসে রাজাদের গৃহরমণীদের পায়ে। অন্দরমহলের নারীদের গতিবিধি বোঝার জন্য তাদের পায়ে নুপূর পরিয়ে দেয়া হতো। এক সময় জমিদারগৃহিণীরাও এ বাঁধনে বাঁধা পড়ে।
পাহাড়ি মেয়েরাও পায়ে পরে নানা ধরনের অলংকার। রূপা ও লোহার তৈরি এসব অলংকার তাদের আভিজাত্যের পরিচয় বহন করে। পাহাড়ি নারী ও পুরুষ উভয়েই পায়ের অলংকার পরে।

বর্তমান সময়ে নূপুর আর বাঁধন নয় বরং ফ্যাশনের অংশ হিসেবে সমাদৃত। নুপূরের রূপের পাশাপাশি বদলে গেছে নুপূর তৈরির উপাদানও। আগে সোনা বা রূপার নুপূরই বেশি প্রচলিত ছিল। এখন অ্যালুমিনিয়ামসহ নানান ধাতু, প্লাস্টিক ইত্যাদি দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন রকমের নুপূর। নুপূরের ঘুঙুর অর্থাত্‍ ঝুনঝুনিগুলোও হয় বিভিন্ন ধরনের, কোনোটিতে থাকে একটি আবার কোনোটিতে থাকে অসংখ্য। ডিজাইনেও রয়েছে বৈচিত্র্য। জ্যামিতিক নকশা, ফুল, চাঁদ, তারা, মাছ ইত্যাদি বিভিন্ন ডিজাইন সম্বলিত নুপূর পাওয়া যায় এখন। মিনা করা এবং পাথর বসানো নুপূরের জনপ্রিয়তা বেশি। তবে এখন ট্রেন্ড চলছে অ্যান্টিক ঘরানার নুপূরের। আদিবাসীদের আদিমতা ও আধুনিকতার ছোঁয়া রয়েছে এসব নুপূরে।

নুপূর যেমনই হোক না কেন তা আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলবে বহুগুণ। পোশাকের সাথে মিলিয়েও পরতে পারেন রঙবেরঙের নুপূর।

কোথায় পাবেন :
যেকোনো প্রসাধনীর দোকান বা অলংকারের দোকানে পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের নুপূর। আড়ং, বসুন্ধরা সিটি, অরচার্ড পয়েন্ট, আলামাস, গাউসিয়া, নিউ মার্কেটসহ প্রায় সব মার্কেটে রয়েছে অলংকারের দোকান, যেগুলো নুপূর পাওয়া যায়। এছাড়া ফ্যাশন হাউসগুলোতেও পাবেন নানান ট্রেন্ডি নুপূর বা পায়েল।

দামদর :
অ্যালুমিনিয়ামের নুপূর ৫০-২৫০ টাকা, অন্যান্য ধাতুর নুপূর ১৫০-৫৫০ টাকা, মিনা করা নুপূর ৩০০-১৫০০ টাকা, পাথর বসানো ৪৫০-৫০০০ নুপূর, অন্যান্যগুলো পাবেন ২০০-২০০০ টাকার মধ্যে।

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Note: All are Not copyrighted , Some post are collected from internet. || বিঃদ্রঃ সকল পোস্ট বিনোদন প্লাসের নিজস্ব লেখা নয়। কিছু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত ।